ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজারে লাইসেন্স পাচ্ছে সাত ব্রোকার

কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজারে লাইসেন্স পাচ্ছে সাত ব্রোকার

দেশে দ্রুত কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজার চালুর প্রস্তুতি জোরদার করেছে বিএসইসি। এজন্য ব্রোকার তৈরির প্রক্রিয়ায় বিশেষ গতি আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিএসইর সাতটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের আবেদন সম্পন্ন করেছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে এসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত লাইসেন্স পাবে। লাইসেন্স পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

  • লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ

  • বি-রিচ

  • সোহেল সিকিউরিটিজ

  • আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ

  • রয়েল ক্যাপিটাল

  • ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ

  • ন্যাশনাল লাইফ সিকিউরিটিজ

এছাড়া আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আবেদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এদের মধ্যে পিএসপি স্টক, ওয়ান লিমিটেড এবং রেমনস ইনভেস্টমেন্ট অন্যতম। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

গোল্ড ও সিলভার দিয়ে লেনদেন শুরু

বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজার চালুর কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। শুরুতে যোগ্যতা অর্জনকারী সাত ব্রোকারকে লাইসেন্স দেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে গোল্ড ও সিলভার দিয়ে ক্যাশ সেটেলমেন্ট চুক্তি চালু হবে। পরবর্তীতে অবকাঠামো তৈরি হলে ফিজিক্যাল ডেলিভারি বা সরাসরি পণ্য সরবরাহ শুরু হবে। এর পর কপার, কটন ও পাম অয়েল যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুরুতে চুক্তির মেয়াদ শেষে নগদ অর্থে লেনদেন সম্পন্ন হবে।

পরবর্তী ধাপে পণ্য সরবরাহের জন্য ওয়্যারহাউজ ও মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি কমানোই মূল লক্ষ্য

এই কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজার কেবল জল্পনাভিত্তিক লেনদেনের স্থান হবে না। বরং পণ্যের দামের ঝুঁকি কমাতে হেজিং মার্কেট হিসেবে এটি কাজ করবে।

আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও বড় ব্যবসায়ীরা এতে হেজার হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। ফলে তারা আগাম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সাম্ভাব্য আর্থিক লোকসান কমাতে পারবেন।

এই বাজারের মূল উদ্দেশ্য অতিরিক্ত মুনাফা করা নয়। বরং পণ্যের মূল্য পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা। তাই হেজারদের তুলনামূলক বেশি পজিশন লিমিট দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘ পথচলা ও বর্তমান অবকাঠামো

২০০৭ সালে দেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার করে ২০২৪ সালে এটি চূড়ান্ত নিবন্ধন পায়। ভারত ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিএসই এই কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

সিএসই ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মানের ট্রেডিং ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। শ্রীলঙ্কাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান এর কারিগরি সুবিধা তৈরি করেছে। পাশাপাশি ভারতীয় সফটওয়্যারও এখানে যুক্ত করা হয়েছে।

গত দুই বছরে প্রায় ২০০ জন ট্রেডারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫টি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত করা হয়েছে। ১২০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও এক্সচেঞ্জের মূল চ্যালেঞ্জ হলো ব্রোকারদের লাইসেন্স প্রদান ও ওয়্যারহাউজ সুবিধা তৈরি করা। এসব প্রস্তুতি শেষ হলে ব্যবসা খাতে পণ্যমূল্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজারে লাইসেন্স পাচ্ছে সাত ব্রোকার

আপডেট সময় : ১১:২৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে দ্রুত কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজার চালুর প্রস্তুতি জোরদার করেছে বিএসইসি। এজন্য ব্রোকার তৈরির প্রক্রিয়ায় বিশেষ গতি আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিএসইর সাতটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের আবেদন সম্পন্ন করেছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে এসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত লাইসেন্স পাবে। লাইসেন্স পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

  • লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ

  • বি-রিচ

  • সোহেল সিকিউরিটিজ

  • আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ

  • রয়েল ক্যাপিটাল

  • ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ

  • ন্যাশনাল লাইফ সিকিউরিটিজ

এছাড়া আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আবেদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এদের মধ্যে পিএসপি স্টক, ওয়ান লিমিটেড এবং রেমনস ইনভেস্টমেন্ট অন্যতম। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

গোল্ড ও সিলভার দিয়ে লেনদেন শুরু

বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজার চালুর কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। শুরুতে যোগ্যতা অর্জনকারী সাত ব্রোকারকে লাইসেন্স দেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে গোল্ড ও সিলভার দিয়ে ক্যাশ সেটেলমেন্ট চুক্তি চালু হবে। পরবর্তীতে অবকাঠামো তৈরি হলে ফিজিক্যাল ডেলিভারি বা সরাসরি পণ্য সরবরাহ শুরু হবে। এর পর কপার, কটন ও পাম অয়েল যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুরুতে চুক্তির মেয়াদ শেষে নগদ অর্থে লেনদেন সম্পন্ন হবে।

পরবর্তী ধাপে পণ্য সরবরাহের জন্য ওয়্যারহাউজ ও মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি কমানোই মূল লক্ষ্য

এই কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজার কেবল জল্পনাভিত্তিক লেনদেনের স্থান হবে না। বরং পণ্যের দামের ঝুঁকি কমাতে হেজিং মার্কেট হিসেবে এটি কাজ করবে।

আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও বড় ব্যবসায়ীরা এতে হেজার হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। ফলে তারা আগাম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সাম্ভাব্য আর্থিক লোকসান কমাতে পারবেন।

এই বাজারের মূল উদ্দেশ্য অতিরিক্ত মুনাফা করা নয়। বরং পণ্যের মূল্য পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা। তাই হেজারদের তুলনামূলক বেশি পজিশন লিমিট দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘ পথচলা ও বর্তমান অবকাঠামো

২০০৭ সালে দেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার করে ২০২৪ সালে এটি চূড়ান্ত নিবন্ধন পায়। ভারত ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিএসই এই কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

সিএসই ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মানের ট্রেডিং ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। শ্রীলঙ্কাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান এর কারিগরি সুবিধা তৈরি করেছে। পাশাপাশি ভারতীয় সফটওয়্যারও এখানে যুক্ত করা হয়েছে।

গত দুই বছরে প্রায় ২০০ জন ট্রেডারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫টি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত করা হয়েছে। ১২০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও এক্সচেঞ্জের মূল চ্যালেঞ্জ হলো ব্রোকারদের লাইসেন্স প্রদান ও ওয়্যারহাউজ সুবিধা তৈরি করা। এসব প্রস্তুতি শেষ হলে ব্যবসা খাতে পণ্যমূল্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।