ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের

২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের



ফটোকার্ড ডাউনলোড

আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ জোর দিচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সংসদে এক বক্তব্যে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

ছাদভিত্তিক ও ভূমিভিত্তিক প্রকল্প

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়াবে প্রায় ২৫ হাজার মেগাওয়াটে। ফলে এই চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক প্রকল্প থেকে ৪৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বায়ু, বর্জ্য ও ভাসমান প্রযুক্তি থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে।

শুল্ক ছাড় ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে সুবিধা

সৌরবিদ্যুৎ খাতের আধুনিক সরঞ্জাম আমদানিতে সরকার মাত্র ১ শতাংশ কর নির্ধারণ করেছে। উপরন্তু আগামী ছয় মাসের জন্য বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য অতিরিক্ত কাস্টমস ও সম্পূরক শুল্কে পূর্ণ ছাড় দেওয়া হবে। সুতরাং এতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত সহজ শর্তে নতুন বিনিয়োগ করতে পারবেন।

উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ কিনবে সরকার

যেসব বিনিয়োগকারী নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করবেন, তাদের কাছ থেকে সরকার বিদ্যুৎ কিনে নেবে। এক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। ফলে নতুন উদ্যোক্তারা এ খাতে দারুণভাবে উৎসাহিত হবেন।

রামপাল ও জাতীয় সংসদে সৌর প্রকল্প

পরিবেশের কথা বিবেচনা করে রামপালে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের পরিবর্তে ৪৬০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াটের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এমনকি জাতীয় সংসদ ভবনের সব কার্যক্রমও বিদ্যুৎ বিভাগের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে চালানোর বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান

সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে তরুণদের সৌরবিদ্যুৎ খাতে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা হবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আলোচনা শেষ হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে দেশীয় মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি এই খাতে ব্যাপক নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

পতিত জমিতে নতুন বিনিয়োগ

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পতিত জমি চিহ্নিত করে পিপিপি পদ্ধতিতে বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা চলছে। এতে বিনিয়োগকারীরা কম খরচে আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারবেন। তবে আপাতত রুফটপ সোলারের আলাদা কোনো মানচিত্র প্রকাশের পরিকল্পনা নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

একাধিক অভিনেতার সঙ্গে সম্পর্ক সুরভি জ্যোতির, যা বললেন অভিনেত্রী

২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ জোর দিচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সংসদে এক বক্তব্যে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

ছাদভিত্তিক ও ভূমিভিত্তিক প্রকল্প

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়াবে প্রায় ২৫ হাজার মেগাওয়াটে। ফলে এই চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক প্রকল্প থেকে ৪৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বায়ু, বর্জ্য ও ভাসমান প্রযুক্তি থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে।

শুল্ক ছাড় ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে সুবিধা

সৌরবিদ্যুৎ খাতের আধুনিক সরঞ্জাম আমদানিতে সরকার মাত্র ১ শতাংশ কর নির্ধারণ করেছে। উপরন্তু আগামী ছয় মাসের জন্য বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য অতিরিক্ত কাস্টমস ও সম্পূরক শুল্কে পূর্ণ ছাড় দেওয়া হবে। সুতরাং এতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত সহজ শর্তে নতুন বিনিয়োগ করতে পারবেন।

উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ কিনবে সরকার

যেসব বিনিয়োগকারী নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করবেন, তাদের কাছ থেকে সরকার বিদ্যুৎ কিনে নেবে। এক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। ফলে নতুন উদ্যোক্তারা এ খাতে দারুণভাবে উৎসাহিত হবেন।

রামপাল ও জাতীয় সংসদে সৌর প্রকল্প

পরিবেশের কথা বিবেচনা করে রামপালে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের পরিবর্তে ৪৬০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াটের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এমনকি জাতীয় সংসদ ভবনের সব কার্যক্রমও বিদ্যুৎ বিভাগের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে চালানোর বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান

সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে তরুণদের সৌরবিদ্যুৎ খাতে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা হবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আলোচনা শেষ হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে দেশীয় মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি এই খাতে ব্যাপক নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

পতিত জমিতে নতুন বিনিয়োগ

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পতিত জমি চিহ্নিত করে পিপিপি পদ্ধতিতে বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা চলছে। এতে বিনিয়োগকারীরা কম খরচে আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারবেন। তবে আপাতত রুফটপ সোলারের আলাদা কোনো মানচিত্র প্রকাশের পরিকল্পনা নেই।