ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রফতানি বহুমুখীকরণে বাংলাদেশের জোর: বাণিজ্যমন্ত্রী

রফতানি বহুমুখীকরণে বাংলাদেশের জোর: বাণিজ্যমন্ত্রী

হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সেখানে তিনি বৈশ্বিক বাণিজ্যে টিকে থাকতে রফতানি বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেন।

পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বাংলাদেশ কাজ করছে। ফলে উৎপাদনশীল খাতে নতুন বিনিয়োগ টানা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে টেকসই অংশীদারত্ব বাড়াতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও চার নীতি

পলিসি ডায়ালগের প্যানেল আলোচনায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশের জন্য অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ এখন এলডিসি উত্তরণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

অতএব, সরকার চারটি বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এগুলো হলো রফতানি বহুমুখীকরণ, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ। এছাড়া সবুজ অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করাও অন্যতম লক্ষ্য।

খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা

পোশাক খাতের বাইরেও নতুন সম্ভাবনাময় খাত গড়ে তোলা হচ্ছে। যেমন ওষুধ, চামড়া, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হালকা প্রকৌশল। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি এবং ম্যান-মেইড ফাইবার খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ। বিআরআই কাঠামোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যৌথ কাজের সুযোগ রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় শিল্প বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সাথে সহজেই যুক্ত হবে।

ডিজিটাল বাণিজ্য ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

ডিজিটাল বাণিজ্য ও ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের বিস্তার ঘটাতে কাজ চলছে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক বাজারের সুবিধা পাবেন। তাছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত করতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে সবুজ অবকাঠামোর বিকল্প নেই। তাই নিম্ন-কার্বন উৎপাদন ও টেকসই লজিস্টিকস জোরদার করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতের টেকসই বাণিজ্যে এগুলোই মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক

চীনের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে একাধিক বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

উদাহরণস্বরূপ, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা অন্যতম। তাছাড়া বিনিয়োগ প্রসারে চীনে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ কার্যালয় চালু করা হচ্ছে। হংকংকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে চায় বাংলাদেশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

রফতানি বহুমুখীকরণে বাংলাদেশের জোর: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:০৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সেখানে তিনি বৈশ্বিক বাণিজ্যে টিকে থাকতে রফতানি বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেন।

পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বাংলাদেশ কাজ করছে। ফলে উৎপাদনশীল খাতে নতুন বিনিয়োগ টানা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে টেকসই অংশীদারত্ব বাড়াতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও চার নীতি

পলিসি ডায়ালগের প্যানেল আলোচনায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশের জন্য অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ এখন এলডিসি উত্তরণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

অতএব, সরকার চারটি বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এগুলো হলো রফতানি বহুমুখীকরণ, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ। এছাড়া সবুজ অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করাও অন্যতম লক্ষ্য।

খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা

পোশাক খাতের বাইরেও নতুন সম্ভাবনাময় খাত গড়ে তোলা হচ্ছে। যেমন ওষুধ, চামড়া, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হালকা প্রকৌশল। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি এবং ম্যান-মেইড ফাইবার খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ। বিআরআই কাঠামোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যৌথ কাজের সুযোগ রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় শিল্প বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সাথে সহজেই যুক্ত হবে।

ডিজিটাল বাণিজ্য ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

ডিজিটাল বাণিজ্য ও ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের বিস্তার ঘটাতে কাজ চলছে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক বাজারের সুবিধা পাবেন। তাছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত করতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে সবুজ অবকাঠামোর বিকল্প নেই। তাই নিম্ন-কার্বন উৎপাদন ও টেকসই লজিস্টিকস জোরদার করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতের টেকসই বাণিজ্যে এগুলোই মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক

চীনের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে একাধিক বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

উদাহরণস্বরূপ, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা অন্যতম। তাছাড়া বিনিয়োগ প্রসারে চীনে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ কার্যালয় চালু করা হচ্ছে। হংকংকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে চায় বাংলাদেশ।