ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাই-টেক পার্কে নেই কার্যকর ইকোসিস্টেম, পুনর্মূল্যায়নের দাবি

হাই-টেক পার্কে নেই কার্যকর ইকোসিস্টেম, পুনর্মূল্যায়নের দাবি

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই না করেই দেশে একাধিক হাই-টেক পার্ক তৈরি করা হয়েছে। ফলে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের পরও এসব প্রকল্প থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল আসছে না।

শনিবার পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। ‘হাই-টেক পার্কস: মিশন কী? বাস্তবতা কী?’ শিরোনামে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

ইকোসিস্টেমের ঘাটতি ও বাস্তব চিত্র

আলোচকদের মতে, পার্কগুলোতে বড় বড় অবকাঠামো গড়ে উঠেছে ঠিকই। তবে উদ্যোক্তা বিকাশ ও দক্ষতা উন্নয়নের মতো প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম সেখানে তৈরি হয়নি।

একইভাবে শিল্প খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগের তীব্র অভাব রয়ে গেছে। ফলে নির্মিত অবকাঠামোর একটি বড় অংশই এখন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, “হাই-টেক পার্কের মূল লক্ষ্য এখন নতুন করে নির্ধারণ করা জরুরি। উদ্যোক্তাদের কেবল জমি ভাড়া না দিয়ে তাদের ব্যবসা প্রসারে সহায়তা দিতে হবে।”

প্রযুক্তি খাতের বৈচিত্র্য ও ব্র্যান্ডিং

হাই-টেক পার্কের পরিধি কেবল সফটওয়্যারে সীমাবদ্ধ না রাখার পরামর্শ দেন প্রযুক্তিবিদরা। তারা সেমিকন্ডাক্টরের মতো সম্ভাবনাময় প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।

ইউওয়াই সিস্টেমসের সিইও ফারহানা এ রহমান বলেন, “অসংখ্য পার্ক না বানিয়ে দু-একটি পার্ককে পুরোপুরি কার্যকর করা উচিত। এতে দেশীয় প্রযুক্তি শিল্পের ব্র্যান্ডিং শক্তিশালী হবে।”

অন্যদিকে, পার্কগুলোর সাফল্য মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নয়, বরং তাদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষমতা বিবেচনা করার তাগিদ দিয়েছেন অংশ ইন্টারন্যাশনালের এমডি মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম।

নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তা ও সঠিক নীতি

ভার্চুয়াল এই বৈঠকে এনএসইউর অধ্যাপক ড. এম রকনুজ্জামান এবং ডিএনএস সফটওয়্যারের এমডি রফেল কবির বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, গবেষণা ও নীতিগত সহায়তা ছাড়া প্রযুক্তি খাতের বিকাশ সম্ভব নয়।

এছাড়া নেট্রো সিস্টেমসের সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মো. আশাফুদ্দোজা শিশির স্টার্টআপগুলোর জন্য পার্কের ভাড়া কমানোর দাবি জানান। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ অন্যান্য শিল্প উদ্যোক্তারা তাদের মতামত তুলে ধরেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিধ্বস্ত টেনিস তারকার অ্যাপার্টমেন্ট, অক্ষত শুধু ফ্রেঞ্চ ওপেনের তোয়ালে

হাই-টেক পার্কে নেই কার্যকর ইকোসিস্টেম, পুনর্মূল্যায়নের দাবি

আপডেট সময় : ১১:৪৫:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই না করেই দেশে একাধিক হাই-টেক পার্ক তৈরি করা হয়েছে। ফলে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের পরও এসব প্রকল্প থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল আসছে না।

শনিবার পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। ‘হাই-টেক পার্কস: মিশন কী? বাস্তবতা কী?’ শিরোনামে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

ইকোসিস্টেমের ঘাটতি ও বাস্তব চিত্র

আলোচকদের মতে, পার্কগুলোতে বড় বড় অবকাঠামো গড়ে উঠেছে ঠিকই। তবে উদ্যোক্তা বিকাশ ও দক্ষতা উন্নয়নের মতো প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম সেখানে তৈরি হয়নি।

একইভাবে শিল্প খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগের তীব্র অভাব রয়ে গেছে। ফলে নির্মিত অবকাঠামোর একটি বড় অংশই এখন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, “হাই-টেক পার্কের মূল লক্ষ্য এখন নতুন করে নির্ধারণ করা জরুরি। উদ্যোক্তাদের কেবল জমি ভাড়া না দিয়ে তাদের ব্যবসা প্রসারে সহায়তা দিতে হবে।”

প্রযুক্তি খাতের বৈচিত্র্য ও ব্র্যান্ডিং

হাই-টেক পার্কের পরিধি কেবল সফটওয়্যারে সীমাবদ্ধ না রাখার পরামর্শ দেন প্রযুক্তিবিদরা। তারা সেমিকন্ডাক্টরের মতো সম্ভাবনাময় প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।

ইউওয়াই সিস্টেমসের সিইও ফারহানা এ রহমান বলেন, “অসংখ্য পার্ক না বানিয়ে দু-একটি পার্ককে পুরোপুরি কার্যকর করা উচিত। এতে দেশীয় প্রযুক্তি শিল্পের ব্র্যান্ডিং শক্তিশালী হবে।”

অন্যদিকে, পার্কগুলোর সাফল্য মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নয়, বরং তাদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষমতা বিবেচনা করার তাগিদ দিয়েছেন অংশ ইন্টারন্যাশনালের এমডি মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম।

নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তা ও সঠিক নীতি

ভার্চুয়াল এই বৈঠকে এনএসইউর অধ্যাপক ড. এম রকনুজ্জামান এবং ডিএনএস সফটওয়্যারের এমডি রফেল কবির বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, গবেষণা ও নীতিগত সহায়তা ছাড়া প্রযুক্তি খাতের বিকাশ সম্ভব নয়।

এছাড়া নেট্রো সিস্টেমসের সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মো. আশাফুদ্দোজা শিশির স্টার্টআপগুলোর জন্য পার্কের ভাড়া কমানোর দাবি জানান। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ অন্যান্য শিল্প উদ্যোক্তারা তাদের মতামত তুলে ধরেন।