বিশ্ববাজারে কয়লার দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রতি টন কয়লার দর ১৪৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই দাম গত তিন মাসের মধ্যে প্রায় সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) একটি নতুন তথ্য জানিয়েছে। তাদের মতে, ২০২৬ সালে কয়লার বৈশ্বিক ব্যবহার নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।
আইইএ-এর পূর্বাভাস ও নতুন রেকর্ড
আইইএ-এর নতুন হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর কয়লার চাহিদা ১.২ শতাংশ বাড়তে পারে। ফলে মোট ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৮৯৪ কোটি টন।
এর আগে সংস্থাটি কয়লার চাহিদা কমার কথা বলেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা আগের পূর্বাভাস পরিবর্তন করেছে।
গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কয়লার ব্যবহার
বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ফলাফল হিসেবে এলএনজির সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দ্রুত কয়লার দিকে ঝুঁকছে।
চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া ইউরোপের কিছু দেশও জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার বাড়াচ্ছে।
আবহাওয়া ও জলবিদ্যুৎ সংকট
কয়লার চাহিদা বাড়ার পেছনে আবহাওয়ার পরিবর্তনও ভূমিকা রাখছে। প্রবল এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলে মানুষের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের সার্বিক চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাশাপাশি ভারত ও ভিয়েতনামে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ফলে বিদ্যুতের এই ঘাটতি মেটাতে দেশগুলো কয়লার ওপর বেশি নির্ভর করছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ভবিষ্যতের শঙ্কা
বর্তমানে বিশ্বে বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের মোট চাহিদা এত দ্রুত বাড়ছে যে কয়লার ব্যবহার কমছে না।
সব মিলিয়ে চলতি বছর কয়লার মোট চাহিদা নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। ফলে পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির এলএনজি সংকট দীর্ঘ হলে সমস্যা আরও তীব্র হবে। এর ফলে ২০২৭ সালেও কয়লার ব্যবহার রেকর্ড পর্যায়ে থাকতে পারে।


























