ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ নভেম্বর থেকে শুরু ইউপি নির্বাচন, প্রস্তুত রাজনৈতিক দলগুলো

১২ নভেম্বর থেকে শুরু ইউপি নির্বাচন, প্রস্তুত রাজনৈতিক দলগুলো

আগামী ১২ নভেম্বর থেকে দেশে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ বা ইউপি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সম্প্রতি নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১২ নভেম্বর। এরপর দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর ও তৃতীয় ধাপের ভোট ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ এবং ২৭ মে সপ্তম বা শেষ ধাপের ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই প্রাথমিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃবিভাগীয় বৈঠকের পর এই তফসিল চূড়ান্ত করা হবে। সব ধাপ শেষ করে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশনের প্রায় এক বছর সময় লাগবে। ইউপি ভোটের পরপরই পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

          ইউপি নির্বাচন ২০২৬-২৭: প্রাথমিক সময়সূচি
┌─────────────────┬──────────────────────────────────────────┐
│ ধাপ             │ সম্ভাব্য তারিখ                          │
├─────────────────┼──────────────────────────────────────────┤
│ ১ম ধাপ          │ ১২ নভেম্বর, ২০২৬                         │
│ ২য় ধাপ          │ ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৬                        │
│ ৩য় ধাপ          │ ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৬                        │
│ ৪র্থ ধাপ          │ ১৭ জানুয়ারি, ২০২৭                        │
│ ৫ম ধাপ          │ ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭                         │
│ ৬ষ্ঠ ধাপ          │ ২২ এপ্রিল, ২০২৭                           │
│ ৭ম ধাপ          │ ২৭ মে, ২০২৭                              │
└─────────────────┴──────────────────────────────────────────┘

কেন এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ?

স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৯ বার ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৩ সালে দেশে প্রথম ইউপি নির্বাচন আয়োজিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৭, ১৯৮৩, ১৯৮৮, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০৩, ২০১১, ২০১৬ এবং সর্বশেষ ২০২১ সালে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ নির্বাচনের পর অনেক ইউপির মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বহু ইউপি প্রতিনিধি বর্তমানে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে স্থানীয় নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। নতুন এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লেষ্টরা।

বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ একক প্রার্থী নির্বাচন

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর এবার ইউপি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটি ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিলেও ২০২১-২২ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিল। দীর্ঘ দিন পর ভোটে ফেরার প্রস্তুতি নিলেও মাঠে নেমে দলটি বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই বিএনপির টিকিট পেতে ৭ থেকে ১৭ জন নেতা প্রত্যাশী হয়ে উঠেছেন। কোনো কোনো এলাকায় কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আগেই নেতারা জোর জনসংযোগ শুরু করেছেন। ফলে দল সমর্থিত একক প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা বিএনপির জন্য বড় সাংগঠনিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপির সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ তিনটি। প্রথমত, দলের একাধিক প্রার্থীকে একজনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ রাখা। দ্বিতীয়ত, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির প্রার্থী সামলানো। তৃতীয়ত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করা।

মাঠে আগেভাগেই গোছানো জামায়াত

অন্যদের চেয়ে জামায়াতে ইসলামী ভোটের মাঠে বেশ এগিয়ে রয়েছে। তারা আগেভাগেই ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক প্রস্তুতি শেষ করেছে।

অধিকাংশ ইউপিতে দলটি ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে। অনেক এলাকায় প্রার্থীরা পুরোদমে মাঠে কাজ শুরু করেছেন। ফলে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে দলটি এখন মাঠ গোছানোর কাজে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপ

সংশোধিত আইন অনুযায়ী ইউপি নির্বাচনে সরাসরি দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ নেই। কিন্তু মাঠপর্যায়ে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে দলগুলো স্থানীয়ভাবে একক প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে একটি নিরপেক্ষ ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব রাজনৈতিক দলের সহায়তা চায় কমিশন। এজন্য আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিটির দুজন প্রতিনিধি এই আলোচনায় অংশ নেবেন।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, জাতীয় নির্বাচনের মতো এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গণ্ডগোল ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতেই কমিশন এই আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ নভেম্বর থেকে শুরু ইউপি নির্বাচন, প্রস্তুত রাজনৈতিক দলগুলো

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগামী ১২ নভেম্বর থেকে দেশে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ বা ইউপি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সম্প্রতি নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১২ নভেম্বর। এরপর দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর ও তৃতীয় ধাপের ভোট ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ এবং ২৭ মে সপ্তম বা শেষ ধাপের ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই প্রাথমিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃবিভাগীয় বৈঠকের পর এই তফসিল চূড়ান্ত করা হবে। সব ধাপ শেষ করে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশনের প্রায় এক বছর সময় লাগবে। ইউপি ভোটের পরপরই পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

          ইউপি নির্বাচন ২০২৬-২৭: প্রাথমিক সময়সূচি
┌─────────────────┬──────────────────────────────────────────┐
│ ধাপ             │ সম্ভাব্য তারিখ                          │
├─────────────────┼──────────────────────────────────────────┤
│ ১ম ধাপ          │ ১২ নভেম্বর, ২০২৬                         │
│ ২য় ধাপ          │ ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৬                        │
│ ৩য় ধাপ          │ ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৬                        │
│ ৪র্থ ধাপ          │ ১৭ জানুয়ারি, ২০২৭                        │
│ ৫ম ধাপ          │ ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭                         │
│ ৬ষ্ঠ ধাপ          │ ২২ এপ্রিল, ২০২৭                           │
│ ৭ম ধাপ          │ ২৭ মে, ২০২৭                              │
└─────────────────┴──────────────────────────────────────────┘

কেন এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ?

স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৯ বার ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৩ সালে দেশে প্রথম ইউপি নির্বাচন আয়োজিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৭, ১৯৮৩, ১৯৮৮, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০৩, ২০১১, ২০১৬ এবং সর্বশেষ ২০২১ সালে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ নির্বাচনের পর অনেক ইউপির মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বহু ইউপি প্রতিনিধি বর্তমানে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে স্থানীয় নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। নতুন এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লেষ্টরা।

বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ একক প্রার্থী নির্বাচন

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর এবার ইউপি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটি ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিলেও ২০২১-২২ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিল। দীর্ঘ দিন পর ভোটে ফেরার প্রস্তুতি নিলেও মাঠে নেমে দলটি বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই বিএনপির টিকিট পেতে ৭ থেকে ১৭ জন নেতা প্রত্যাশী হয়ে উঠেছেন। কোনো কোনো এলাকায় কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আগেই নেতারা জোর জনসংযোগ শুরু করেছেন। ফলে দল সমর্থিত একক প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা বিএনপির জন্য বড় সাংগঠনিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপির সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ তিনটি। প্রথমত, দলের একাধিক প্রার্থীকে একজনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ রাখা। দ্বিতীয়ত, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির প্রার্থী সামলানো। তৃতীয়ত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করা।

মাঠে আগেভাগেই গোছানো জামায়াত

অন্যদের চেয়ে জামায়াতে ইসলামী ভোটের মাঠে বেশ এগিয়ে রয়েছে। তারা আগেভাগেই ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক প্রস্তুতি শেষ করেছে।

অধিকাংশ ইউপিতে দলটি ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে। অনেক এলাকায় প্রার্থীরা পুরোদমে মাঠে কাজ শুরু করেছেন। ফলে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে দলটি এখন মাঠ গোছানোর কাজে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপ

সংশোধিত আইন অনুযায়ী ইউপি নির্বাচনে সরাসরি দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ নেই। কিন্তু মাঠপর্যায়ে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে দলগুলো স্থানীয়ভাবে একক প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে একটি নিরপেক্ষ ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব রাজনৈতিক দলের সহায়তা চায় কমিশন। এজন্য আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিটির দুজন প্রতিনিধি এই আলোচনায় অংশ নেবেন।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, জাতীয় নির্বাচনের মতো এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গণ্ডগোল ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতেই কমিশন এই আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।