ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাত ত্যাগ করেছেন অমিতাভ, স্বামীকে বিশেষ খাবার দেন জয়া

বলিউড শাহেনশাহ কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ৮৩ বছর বয়সেও কাজের ব্যস্ততা, শুটিং আর টেলিভিশনের পর্দায় একই রকম সক্রিয় দেখা যায়। তার ফিটনেস রুটিন নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই ভক্ত-অনুরাগীদের। সম্প্রতি ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮-এর এক পর্বে নিজের খাদ্যাভ্যাসের কথা জানালেন বিগ বি।

সম্প্রতি খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছেন অমিতাভ বচ্চন। আর স্বামীর এ অভ্যাস বদলের কারণে নিজে হাতে নতুন নতুন রান্না করে খাওয়ান বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জয়া বচ্চন। বিগবি বলেন, আমি ভাত ও ক্ষীর (পায়েস)— দুটিই খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। তাই জয়া আমার জন্য দারুণ একটা খাবার বানিয়েছিল। ম্যাঙ্গো ক্ষীর। দুর্দান্ত খেতে!

এ কিংবদন্তি অভিনেতা আরও বলেন, ‘জয়া এই শো দেখে। তাই এখানে আমি জয়াকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আম দিয়ে তোমার বানানো ক্ষীর বড়়ই ভালো লেগেছে আমার।’ কিন্তু এখানেই প্রশ্ন— বয়স বাড়লে কি সত্যিই ভাত বাদ দেওয়া উচিত? ভাত না খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়? আর ভাতের বদলে কী খাওয়া যেতে পারে?

সাধারণত যে পালিশ করা সাদা ভাত মূলত খাওয়া হয়, তা কার্বোহাইড্রেটের উৎস। এতে ফাইবার তুলনামূলকভাবে কম এবং অন্য পুষ্টিকর উপাদানের পরিমাণও সীমিত। ফলে সুষম খাবারের বাকি অংশ ঠিক থাকলে শুধু সাদা ভাত বাদ দেওয়ার কারণে নির্দিষ্ট পুষ্টির ঘাটতি হবেই, এমন নয়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, ভাত কোনোভাবেই পুষ্টিকর নয়। পালিশ না করা বা আংশিক পালিশ করা চালের মধ্যে ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেশিয়ামসহ বেশ কিছু পুষ্টিকর উপাদান থাকে। তাই কেউ যদি দীর্ঘদিনের জন্য ভাত বাদ দেন, তাহলে ওই পুষ্টিগুলো অন্য খাবার থেকে পূরণ করতে হবে।

যারা নিয়মিত ভাত খান, তাদের কাছে হঠাৎ ভাত বন্ধ করা বড় পরিবর্তন। ফলে প্রথম দিকে কারও কারও দুর্বল লাগতে পারে, শক্তি কমে যেতে পারে অথবা খিদে বেশি পেতে পারে।

অবশ্য পুষ্টিবিদদের মতে, এ পরিবর্তন সাময়িক। খাবারে পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকলে শরীর ধীরে ধীরে নতুন খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। পাকা আম নিজেই বেশ মিষ্টি হয়। তাই ক্ষীর তৈরির সময় বাড়তি চিনি না দিলেও চলে বা খুব সামান্য দিলেই হয়। চিনি ছাড়া বানালে এটি ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বাড়িতে বানানো মিষ্টি অবশ্যই দোকানের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর হয়।

তবে জয়া ঠিক কী কী দিয়ে এ মিষ্টিটি তৈরি করেছেন, তা অবশ্য জানা যায়নি। অমিতাভের খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য— সব মাথায় রেখেই নিশ্চয়ই রান্না করেছেন এ বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, ভাতের বদলে কী কী খাওয়া যেতে পারে—

১. রাগি, বাজরা, কোদো, পরসো-সহ বিভিন্ন মিলেট।

২. কিনোয়া, বাকহুইট, রাজগিরা।

৩. দানাশস্য, বার্লি, ওট্স।

৪. স্টার্চযুক্ত সব্জি, যেমন, রাঙাআলু, ওল ইত্যাদি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাত ত্যাগ করেছেন অমিতাভ, স্বামীকে বিশেষ খাবার দেন জয়া

আপডেট সময় : ০১:০১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বলিউড শাহেনশাহ কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ৮৩ বছর বয়সেও কাজের ব্যস্ততা, শুটিং আর টেলিভিশনের পর্দায় একই রকম সক্রিয় দেখা যায়। তার ফিটনেস রুটিন নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই ভক্ত-অনুরাগীদের। সম্প্রতি ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮-এর এক পর্বে নিজের খাদ্যাভ্যাসের কথা জানালেন বিগ বি।

সম্প্রতি খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছেন অমিতাভ বচ্চন। আর স্বামীর এ অভ্যাস বদলের কারণে নিজে হাতে নতুন নতুন রান্না করে খাওয়ান বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জয়া বচ্চন। বিগবি বলেন, আমি ভাত ও ক্ষীর (পায়েস)— দুটিই খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। তাই জয়া আমার জন্য দারুণ একটা খাবার বানিয়েছিল। ম্যাঙ্গো ক্ষীর। দুর্দান্ত খেতে!

এ কিংবদন্তি অভিনেতা আরও বলেন, ‘জয়া এই শো দেখে। তাই এখানে আমি জয়াকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আম দিয়ে তোমার বানানো ক্ষীর বড়়ই ভালো লেগেছে আমার।’ কিন্তু এখানেই প্রশ্ন— বয়স বাড়লে কি সত্যিই ভাত বাদ দেওয়া উচিত? ভাত না খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়? আর ভাতের বদলে কী খাওয়া যেতে পারে?

সাধারণত যে পালিশ করা সাদা ভাত মূলত খাওয়া হয়, তা কার্বোহাইড্রেটের উৎস। এতে ফাইবার তুলনামূলকভাবে কম এবং অন্য পুষ্টিকর উপাদানের পরিমাণও সীমিত। ফলে সুষম খাবারের বাকি অংশ ঠিক থাকলে শুধু সাদা ভাত বাদ দেওয়ার কারণে নির্দিষ্ট পুষ্টির ঘাটতি হবেই, এমন নয়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, ভাত কোনোভাবেই পুষ্টিকর নয়। পালিশ না করা বা আংশিক পালিশ করা চালের মধ্যে ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেশিয়ামসহ বেশ কিছু পুষ্টিকর উপাদান থাকে। তাই কেউ যদি দীর্ঘদিনের জন্য ভাত বাদ দেন, তাহলে ওই পুষ্টিগুলো অন্য খাবার থেকে পূরণ করতে হবে।

যারা নিয়মিত ভাত খান, তাদের কাছে হঠাৎ ভাত বন্ধ করা বড় পরিবর্তন। ফলে প্রথম দিকে কারও কারও দুর্বল লাগতে পারে, শক্তি কমে যেতে পারে অথবা খিদে বেশি পেতে পারে।

অবশ্য পুষ্টিবিদদের মতে, এ পরিবর্তন সাময়িক। খাবারে পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকলে শরীর ধীরে ধীরে নতুন খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। পাকা আম নিজেই বেশ মিষ্টি হয়। তাই ক্ষীর তৈরির সময় বাড়তি চিনি না দিলেও চলে বা খুব সামান্য দিলেই হয়। চিনি ছাড়া বানালে এটি ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বাড়িতে বানানো মিষ্টি অবশ্যই দোকানের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর হয়।

তবে জয়া ঠিক কী কী দিয়ে এ মিষ্টিটি তৈরি করেছেন, তা অবশ্য জানা যায়নি। অমিতাভের খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য— সব মাথায় রেখেই নিশ্চয়ই রান্না করেছেন এ বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, ভাতের বদলে কী কী খাওয়া যেতে পারে—

১. রাগি, বাজরা, কোদো, পরসো-সহ বিভিন্ন মিলেট।

২. কিনোয়া, বাকহুইট, রাজগিরা।

৩. দানাশস্য, বার্লি, ওট্স।

৪. স্টার্চযুক্ত সব্জি, যেমন, রাঙাআলু, ওল ইত্যাদি।