ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশে দেশীয় কার্ডের লেনদেন বাড়ছে, ৪ গুণ অর্থ বাইরে

বিদেশে দেশীয় কার্ডের লেনদেন বাড়ছে, ৪ গুণ অর্থ বাইরে

দেশীয় ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহারে দেশের বাইরে অর্থ যাওয়ার পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত জুলাইয়ে কার্ডের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আসা অর্থের চেয়ে ৪ গুণ বেশি অর্থ বাইরে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশীয় কার্ডে বিদেশে মোট ৯৮৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে বিদেশি কার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে এসেছে মাত্র ২৩৪ কোটি টাকা। ফলে কার্ডভিত্তিক অর্থপ্রবাহে আয়ের তুলনায় ব্যয় হয়েছে ৪ দশমিক ২ গুণ বেশি।

আন্তর্জাতিক লেনদেন বাড়ার মূল কারণ

করোনা মহামারির পর মানুষের বিদেশ ভ্রমণের প্রবণতা অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসা বাবদ বৈদেশিক মুদ্রার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া অনলাইন কেনাকাটা এবং ডিজিটাল সেবার বিল পরিশোধে আন্তর্জাতিক কার্ডের ব্যবহার নিয়মিত বাড়ছে।

তবে দেশে আশানুরূপ বিদেশি পর্যটক না আসায় বিদেশি কার্ডের মাধ্যমে অর্থপ্রবাহ বাড়ছে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেনে দেশের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান ক্রমশ তৈরি হচ্ছে।

ব্যয়ের শীর্ষে ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড

জুলাই মাসে বিদেশে দেশীয় কার্ডের মাধ্যমে মোট ১৭ লাখ ৪৪ হাজার ৩০টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ হয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৬টি লেনদেনে মোট ব্যয় হয় ৫২৬ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ডেবিট কার্ডে ৭ লাখ ৯০ হাজার ১২৩টি লেনদেনের মাধ্যমে খরচ হয়েছে ৪০১ কোটি টাকা। এছাড়া প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮২১টি লেনদেনে প্রায় ৫৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে

বিদেশে দেশীয় কার্ডের খরচের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ে মোট আন্তর্জাতিক ব্যয়ের ১৫ দশমিক ৮১ শতাংশ গেছে দেশটিতে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে ব্যয় হয়েছে ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ অর্থ।

এছাড়া থাইল্যান্ডে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ভারতে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, চীন ও মালয়েশিয়াতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ আয়ারল্যান্ড, সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশে গেছে।

দেশের বাজারেও দ্রুত বাড়ছে কার্ডের ব্যবহার

আন্তর্জাতিক লেনদেনের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও কার্ডের ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত পাঁচ বছরে দেশে কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯৭ শতাংশ। একই সময়ে কার্ডে মোট লেনদেনের পরিমাণ ১০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

২০২১ সালের আগস্টে দেশে মোট কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৬৫ লাখের বেশি। কিন্তু ২০২৬ সালের জুনে এসে এই সংখ্যা ৫ কোটি ২৪ লাখ ছাড়িয়ে যায়। ফলে ২০২১ সালের আগস্টের ২২ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকার মাসিক লেনদেন বর্তমানে ৪৭ হাজার ৪৮০ কোটি টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে।

বৈদেশিক মুদ্রা বাড়ানোর সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটন খাত পুনরুজ্জীবিত করতে পারলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে। এর ফলে দেশের ভেতরে বিদেশি কার্ডের ব্যবহার বৃদ্ধিসহ অর্থপ্রবাহ ইতিবাচক করা সম্ভব হবে।

পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের অর্জিত অর্থ সহজে কার্ডের মাধ্যমে আনার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এতে আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেনে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার আগমন আরও সম্প্রসারিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের অধিনায়কত্ব হারানো নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন রশিদ

বিদেশে দেশীয় কার্ডের লেনদেন বাড়ছে, ৪ গুণ অর্থ বাইরে

আপডেট সময় : ১০:৪৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশীয় ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহারে দেশের বাইরে অর্থ যাওয়ার পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত জুলাইয়ে কার্ডের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আসা অর্থের চেয়ে ৪ গুণ বেশি অর্থ বাইরে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশীয় কার্ডে বিদেশে মোট ৯৮৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে বিদেশি কার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে এসেছে মাত্র ২৩৪ কোটি টাকা। ফলে কার্ডভিত্তিক অর্থপ্রবাহে আয়ের তুলনায় ব্যয় হয়েছে ৪ দশমিক ২ গুণ বেশি।

আন্তর্জাতিক লেনদেন বাড়ার মূল কারণ

করোনা মহামারির পর মানুষের বিদেশ ভ্রমণের প্রবণতা অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসা বাবদ বৈদেশিক মুদ্রার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া অনলাইন কেনাকাটা এবং ডিজিটাল সেবার বিল পরিশোধে আন্তর্জাতিক কার্ডের ব্যবহার নিয়মিত বাড়ছে।

তবে দেশে আশানুরূপ বিদেশি পর্যটক না আসায় বিদেশি কার্ডের মাধ্যমে অর্থপ্রবাহ বাড়ছে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেনে দেশের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান ক্রমশ তৈরি হচ্ছে।

ব্যয়ের শীর্ষে ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড

জুলাই মাসে বিদেশে দেশীয় কার্ডের মাধ্যমে মোট ১৭ লাখ ৪৪ হাজার ৩০টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ হয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৬টি লেনদেনে মোট ব্যয় হয় ৫২৬ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ডেবিট কার্ডে ৭ লাখ ৯০ হাজার ১২৩টি লেনদেনের মাধ্যমে খরচ হয়েছে ৪০১ কোটি টাকা। এছাড়া প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮২১টি লেনদেনে প্রায় ৫৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে

বিদেশে দেশীয় কার্ডের খরচের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ে মোট আন্তর্জাতিক ব্যয়ের ১৫ দশমিক ৮১ শতাংশ গেছে দেশটিতে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে ব্যয় হয়েছে ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ অর্থ।

এছাড়া থাইল্যান্ডে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ভারতে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, চীন ও মালয়েশিয়াতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ আয়ারল্যান্ড, সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশে গেছে।

দেশের বাজারেও দ্রুত বাড়ছে কার্ডের ব্যবহার

আন্তর্জাতিক লেনদেনের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও কার্ডের ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত পাঁচ বছরে দেশে কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯৭ শতাংশ। একই সময়ে কার্ডে মোট লেনদেনের পরিমাণ ১০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

২০২১ সালের আগস্টে দেশে মোট কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৬৫ লাখের বেশি। কিন্তু ২০২৬ সালের জুনে এসে এই সংখ্যা ৫ কোটি ২৪ লাখ ছাড়িয়ে যায়। ফলে ২০২১ সালের আগস্টের ২২ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকার মাসিক লেনদেন বর্তমানে ৪৭ হাজার ৪৮০ কোটি টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে।

বৈদেশিক মুদ্রা বাড়ানোর সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটন খাত পুনরুজ্জীবিত করতে পারলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে। এর ফলে দেশের ভেতরে বিদেশি কার্ডের ব্যবহার বৃদ্ধিসহ অর্থপ্রবাহ ইতিবাচক করা সম্ভব হবে।

পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের অর্জিত অর্থ সহজে কার্ডের মাধ্যমে আনার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এতে আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেনে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার আগমন আরও সম্প্রসারিত হবে।