শনিবার রোমার মাঠে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ২-২ গোলে ড্র করে সিরি আ চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান। এই ম্যাচে দলকে টেনে তোলেন অধিনায়ক লাউতারো মার্তিনেজ।
মৌসুমের শুরুতে দুই দলেরই ছিল শতভাগ জয়ের রেকর্ড। এই ড্রয়ের ফলে দুই দলই একে অন্যের ওপর চাপটা ধরে রাখল।
জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনির রোমা এই মৌসুমে ইতালির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। দনিয়েল মালেনের গোল করার ক্ষমতা এবং শক্ত রক্ষণভাগের সুবাদে চার ম্যাচেই জিতেছে তারা।
প্রথমার্ধে মানু কোনের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল রোমা। কিন্তু সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এমন পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসে ক্রিস্তিয়ান কিভুর দল। মার্তিনেজের জোড়া গোলে ঘুরে দাঁড়ায় চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের দিন সকালে ৮৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন সান্দ্রো মাজ্জোলা। ইন্টার মিলান এবং ইতালির সাবেক এই তারকা প্লেমেকারকে শ্রদ্ধা জানায় দুই দলই। খেলা শুরুর আগে নীরবতা পালন করা হয়। কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামে ইন্টারের খেলোয়াড়েরা।
ম্যাচ শুরুর ছয় মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় রোমা। নাহুয়েল মলিনার নামানো বল দুর্দান্তভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জালে জড়ান কোনে। এই মৌসুমে এটি ছিল তার প্রথম গোল। আবারও ধীরগতিতে ম্যাচ শুরু করে ইন্টার। এই বিষয়টি কোচ ক্রিস্তিয়ান কিভুর জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।
সোমবার উদিনেসের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলা শুরুর ১৬ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৫-৩ গোলে জিতেছিল ইন্টার। এবারও একইরকম পরিস্থিতির মুখে পড়ে তারা।
প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় স্তাদিও অলিম্পিকোতে খেই হারিয়ে ফেলে ইন্টার। পাওলো দিবালা দুইবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেন। ২৬ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পান মার্কাস থুরাম। কিন্তু তার শট সরাসরি রোমার গোলরক্ষক মিলে স্ভিলারের হাতে চলে যায়।
সাত মিনিট পর কার্টিস জোন্সের চমৎকার পাস থেকে সুযোগ পান আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। কিন্তু কোনাকুনি জায়গা থেকে নেওয়া তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
তবে ইন্টার যখন ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল, ঠিক তখনই ৩৭ মিনিটে আবার গোল করেন কোনে। কাছ থেকে বল জালে পাঠান তিনি। প্রথমে সহকারী রেফারির পতাকায় উদযাপন থেমে যায় তার। পরে ভিএআরের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর গোলের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি দাভিদে মাসসা। এটি ছিল ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলারের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সিরি আ গোল।
সাবেক ইন্টার ডিফেন্ডার কিভু বিরতিতে নিশ্চয়ই খেলোয়াড়দের কড়া কথা শুনিয়েছিলেন। কারণ দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই দাপট দেখায় তার দল। বিরতির পর এক মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান কমান অধিনায়ক মার্তিনেজ। থুরামের বাড়ানো বল থেকে তার নেওয়া শট গোলরক্ষক স্ভিলারের দূরের পোস্টের পাশ দিয়ে জালে ঢুকে যায়।
৬৮ মিনিটে আরেকটি গোলের কাছাকাছি চলে যান মালেন। ভিড়ের মধ্যে দারুণ টাচে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শট নেন তিনি। কিন্তু বল ইন্টার গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেজের কপালে লেগে নিরাপদে চলে যায়। এই মৌসুমে এটি হতে পারতো তার ষষ্ঠ গোল।
ম্যাচের শেষ দশ মিনিটে যখন মনে হচ্ছিল খেলা একইভাবে শেষ হবে, তখনই গোলমুখে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। প্রথমে দারুণ সেভ করেন স্ভিলার। এরপর চাপের মুখে হেড নিয়ে ক্রসবারে মারেন মার্তিনেজ। তবে বল ফিরে আসার পর আবার বক্সের মধ্যে সেটি পান আর্জেন্টাইন এই তারকা। এবার আর ভুল করেননি তিনি। উরু দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সার্বিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করে সমতা ফেরান তিনি। ২-২ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।






















