ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এর বিভিন্ন লক্ষণও এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজের সব সচেতন নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কুমিল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এতে পুরো দেশের মানুষ মর্মাহত। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে অপরাধের স্বীকারোক্তিও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা অনেকটা কিশোর অপরাধীর মতো। তাদের বয়স নিহত কিশোরের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বেশি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কিছু আলামত পাওয়া গেছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধারে পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে কাজ করেছে। বর্তমানে ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো এই মামলাটিও বিচার বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে বলে তিনি আশা করেন।

অপরাধের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে মাদক ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ও অনুপ্রেরণামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন, যাতে তারা ইতিবাচক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, অপরাধের বিচার হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর জঘন্য অপরাধগুলোর দ্রুততম সময়ে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে। যেসব মামলার তদন্তে বেশি সময় প্রয়োজন, সেগুলোর কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:০২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এর বিভিন্ন লক্ষণও এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজের সব সচেতন নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কুমিল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এতে পুরো দেশের মানুষ মর্মাহত। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে অপরাধের স্বীকারোক্তিও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা অনেকটা কিশোর অপরাধীর মতো। তাদের বয়স নিহত কিশোরের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বেশি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কিছু আলামত পাওয়া গেছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধারে পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে কাজ করেছে। বর্তমানে ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো এই মামলাটিও বিচার বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে বলে তিনি আশা করেন।

অপরাধের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে মাদক ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ও অনুপ্রেরণামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন, যাতে তারা ইতিবাচক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, অপরাধের বিচার হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর জঘন্য অপরাধগুলোর দ্রুততম সময়ে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে। যেসব মামলার তদন্তে বেশি সময় প্রয়োজন, সেগুলোর কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।