ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণহারে ডেঙ্গুর টিকা অনুমোদনে সতর্ক সরকার, জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

গণহারে ডেঙ্গুর টিকা অনুমোদনে সতর্ক সরকার, জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে গণহারে ডেঙ্গুর টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, বিজ্ঞানীদের মতামত, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার তথ্য এবং বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর ওপর টিকার কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলা একাডেমিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গুর সম্ভাব্য টিকা নিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে দুই থেকে তিনটি ডেঙ্গুর টিকা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে প্রায় ৩০টি দেশে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। এসব দেশে মূলত বেসরকারি পর্যায়ে টিকা ব্যবহার করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতেও বেসরকারি পর্যায়ে ডেঙ্গুর টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে বাংলাদেশে গণহারে টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তথ্য ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি এখানে জড়িত। ডেঙ্গুর টিকাকে চলতি মৌসুমের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি ভবিষ্যতে সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়। এদিকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জাপানের উদ্ভাবিত আধুনিক প্রযুক্তি বাংলাদেশে ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে সরকার। প্রযুক্তিটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

আগেভাগে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, সমন্বিত উদ্যোগ এবং চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের কারণে এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার আগের বছরগুলোর তুলনায় কমেছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রায় চার মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করে। প্রায় দুই মাস আগে সতর্ক করা হয়েছিল, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে এবং তা নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর দাবি, বিশেষ প্রশিক্ষণ ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসাব্যবস্থাপনার ফলে আগের বছরগুলোর তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। আগে প্রতি হাজার আক্রান্তের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হতো, এখন তা কমে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশের ৬৪ জেলার মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালের প্রায় দুই হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু চিকিৎসাবিষয়ক পুনঃপ্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিভিন্ন সংগঠনের প্রায় এক হাজার তরুণ স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। পাশাপাশি প্রতি শনিবার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে।

ঢাকা ও খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেশি উল্লেখ করে তিনি নাগরিকদের বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব ও ভবনের নিচতলা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে ইনুর আপিল

গণহারে ডেঙ্গুর টিকা অনুমোদনে সতর্ক সরকার, জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:৪৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে গণহারে ডেঙ্গুর টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, বিজ্ঞানীদের মতামত, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার তথ্য এবং বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর ওপর টিকার কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলা একাডেমিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গুর সম্ভাব্য টিকা নিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে দুই থেকে তিনটি ডেঙ্গুর টিকা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে প্রায় ৩০টি দেশে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। এসব দেশে মূলত বেসরকারি পর্যায়ে টিকা ব্যবহার করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতেও বেসরকারি পর্যায়ে ডেঙ্গুর টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে বাংলাদেশে গণহারে টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তথ্য ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি এখানে জড়িত। ডেঙ্গুর টিকাকে চলতি মৌসুমের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি ভবিষ্যতে সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়। এদিকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জাপানের উদ্ভাবিত আধুনিক প্রযুক্তি বাংলাদেশে ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে সরকার। প্রযুক্তিটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

আগেভাগে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, সমন্বিত উদ্যোগ এবং চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের কারণে এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার আগের বছরগুলোর তুলনায় কমেছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রায় চার মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করে। প্রায় দুই মাস আগে সতর্ক করা হয়েছিল, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে এবং তা নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর দাবি, বিশেষ প্রশিক্ষণ ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসাব্যবস্থাপনার ফলে আগের বছরগুলোর তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। আগে প্রতি হাজার আক্রান্তের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হতো, এখন তা কমে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশের ৬৪ জেলার মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালের প্রায় দুই হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু চিকিৎসাবিষয়ক পুনঃপ্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিভিন্ন সংগঠনের প্রায় এক হাজার তরুণ স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। পাশাপাশি প্রতি শনিবার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে।

ঢাকা ও খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেশি উল্লেখ করে তিনি নাগরিকদের বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব ও ভবনের নিচতলা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।