গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট কাজ করছে। তাদের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে যোগ দিয়েছেন সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করছেন সেনাসদস্যরা। আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে বিজিবির অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কারখানার একটি ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন পুরো ভবনসহ আশপাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকা ছেয়ে গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকার বেক্সিমকো রোডে অবস্থিত এসেনশিয়াল ড্রাগস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ইউনিট-২ এর একটি ভবনের পিন সেকশনে আগুনের সূত্রপাত হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। দুপুর নাগাদ তা কারখানার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে টঙ্গী, গাজীপুর, জয়দেবপুর, পূবাইল ও উত্তরাসহ আশপাশের বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে ২০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বুধবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস জানায় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার স্টেশন থেকে প্রথমে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। স্টেশন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কারখানাটিতে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
পরবর্তী সময়ে আগুনের তীব্রতা বাড়লে আশপাশের বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে আরও পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নিনির্বাপণের কাজে যোগ দেয়। এ ছাড়া আরও কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহিন আলম জানান, তাঁর নেতৃত্বে প্রথমে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আরও পাঁচটি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে যোগ দেয়।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাইদুল আলম চৌধুরী জানান, কারখানার ভেতরে থাকা সচল পাম্প এবং আশপাশের বসতবাড়ির পাম্প থেকেও পানি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, একটি ওষুধ কোম্পানির কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজে যোগ দিয়েছে। পরে আরও পাঁচটি ইউনিট কাজে যোগ দিয়েছে। আরও পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
























