ঢাকা ০৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলপিজি নিয়ে ধর্মঘট বরদাশত করা হবে না: জ্বালানিমন্ত্রী

এলপিজি নিয়ে ধর্মঘট বরদাশত করা হবে না: জ্বালানিমন্ত্রী

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রেখে ধর্মঘটের চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ব্যবসায়ীদের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ধর্মঘট করার চেষ্টা করলে আমরা ১৯৫৬ সালের আইন প্রয়োগ করব। দাম বাড়ানোর জন্য ইচ্ছেমতো ধর্মঘট ডাকা যাবে না। এটা মেনে নেওয়া হবে না।

ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ, কমিশন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুই দিনের জন্য এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এলপিজি ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশন।

বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে ওঠানামা করছে এবং সরবরাহের উৎসগুলোও ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে রয়েছে। অন্য উৎসগুলো অনিশ্চিত। আমরা ভোক্তাদের জন্য দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করছি।

সরবরাহ বন্ধ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার জনগণকে ভোগান্তিতে পড়তে দেবে না।

বৈঠকে উপস্থিত বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কারসাজি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং ব্যবসায়িক দাবি আদায়ে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন এখনো কার্যকর রয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান, কমিশন বা অন্যান্য বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ করে কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা মেনে নেওয়া হবে না।

বাজার অস্থিতিশীল করা কিংবা ভোক্তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), বিস্ফোরক পরিদপ্তর এবং শীর্ষস্থানীয় এলপিজি কোম্পানিগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজি নিয়ে ধর্মঘট বরদাশত করা হবে না: জ্বালানিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রেখে ধর্মঘটের চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ব্যবসায়ীদের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ধর্মঘট করার চেষ্টা করলে আমরা ১৯৫৬ সালের আইন প্রয়োগ করব। দাম বাড়ানোর জন্য ইচ্ছেমতো ধর্মঘট ডাকা যাবে না। এটা মেনে নেওয়া হবে না।

ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ, কমিশন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুই দিনের জন্য এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এলপিজি ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশন।

বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে ওঠানামা করছে এবং সরবরাহের উৎসগুলোও ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে রয়েছে। অন্য উৎসগুলো অনিশ্চিত। আমরা ভোক্তাদের জন্য দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করছি।

সরবরাহ বন্ধ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার জনগণকে ভোগান্তিতে পড়তে দেবে না।

বৈঠকে উপস্থিত বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কারসাজি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং ব্যবসায়িক দাবি আদায়ে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন এখনো কার্যকর রয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান, কমিশন বা অন্যান্য বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ করে কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা মেনে নেওয়া হবে না।

বাজার অস্থিতিশীল করা কিংবা ভোক্তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), বিস্ফোরক পরিদপ্তর এবং শীর্ষস্থানীয় এলপিজি কোম্পানিগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।