ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগে নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগে নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প এবং সবুজ জ্বালানির মতো সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে এই বৈঠকে যৌথ বিনিয়োগ ও রপ্তানি সম্প্রসারণের নানা সুযোগ তুলে ধরে বাংলাদেশ।

বৈঠকে নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের পক্ষে ছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার মার্কেট ম্যানেজার র‍্যাচেল ম্যাকগাকিয়ান। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান। এছাড়া দলে ছিলেন যুগ্ম সচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ এবং উপসচিব (এফটিএ) ফারহানা ইসলাম। গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানায়।

বর্তমান বাণিজ্যের চিত্র

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ মূলত দুগ্ধজাত ও ধাতব পণ্য আমদানি করে। তবে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো তুলনামূলক কম, প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বড় অংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তাই বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে অ-পোশাক খাতে জোর দেওয়া হয়েছে।

নতুন সম্ভাবনার খাতসমূহ

ফার্মাসিউটিক্যালস, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, টেকসই বস্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি— এই পাঁচটি খাতে নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদের আওতায় কাজ করছে। ফলে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য খাতে সাশ্রয়ী মূল্যে জেনেরিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।

পাশাপাশি বাংলাদেশে ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি দক্ষ প্রযুক্তি পেশাজীবী রয়েছেন বলে তুলে ধরা হয়। এই জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সফটওয়্যার, ফিনটেক ও ডিজিটাল সেবা খাতে অংশীদারত্ব গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উপরন্তু নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।

নিউজিল্যান্ডের জন্য বিনিয়োগ সুযোগ

দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষায়িত পুষ্টিপণ্য, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস ও কৃষি-প্রযুক্তির মতো খাতে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিও এই তালিকায় রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একাধিক সুবিধা রয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারেও প্রবেশ করতে পারে।

আগামী পদক্ষেপ কী হবে

সহযোগিতাকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথমত, এনজেডটিইর দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। দ্বিতীয়ত, ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটি ও চামড়া খাতের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ক্রেতাদের ভার্চুয়াল বিটুবি বৈঠকের আয়োজন করা হবে। তৃতীয়ত, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হবে।

এছাড়া উভয় দেশ দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক পরিষদ গঠন এবং যৌথ বাণিজ্য মেলা আয়োজনে একমত হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়।

বাংলাদেশের বিশাল বাজার ও উৎপাদন সক্ষমতা এবং নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা একত্রিত হলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

হালাল অর্থনীতি: বাণিজ্যমন্ত্রীর নতুন দিকনির্দেশনা

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগে নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের

আপডেট সময় : ১১:১৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প এবং সবুজ জ্বালানির মতো সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে এই বৈঠকে যৌথ বিনিয়োগ ও রপ্তানি সম্প্রসারণের নানা সুযোগ তুলে ধরে বাংলাদেশ।

বৈঠকে নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের পক্ষে ছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার মার্কেট ম্যানেজার র‍্যাচেল ম্যাকগাকিয়ান। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান। এছাড়া দলে ছিলেন যুগ্ম সচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ এবং উপসচিব (এফটিএ) ফারহানা ইসলাম। গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানায়।

বর্তমান বাণিজ্যের চিত্র

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ মূলত দুগ্ধজাত ও ধাতব পণ্য আমদানি করে। তবে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো তুলনামূলক কম, প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বড় অংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তাই বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে অ-পোশাক খাতে জোর দেওয়া হয়েছে।

নতুন সম্ভাবনার খাতসমূহ

ফার্মাসিউটিক্যালস, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, টেকসই বস্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি— এই পাঁচটি খাতে নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদের আওতায় কাজ করছে। ফলে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য খাতে সাশ্রয়ী মূল্যে জেনেরিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।

পাশাপাশি বাংলাদেশে ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি দক্ষ প্রযুক্তি পেশাজীবী রয়েছেন বলে তুলে ধরা হয়। এই জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সফটওয়্যার, ফিনটেক ও ডিজিটাল সেবা খাতে অংশীদারত্ব গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উপরন্তু নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।

নিউজিল্যান্ডের জন্য বিনিয়োগ সুযোগ

দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষায়িত পুষ্টিপণ্য, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস ও কৃষি-প্রযুক্তির মতো খাতে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিও এই তালিকায় রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একাধিক সুবিধা রয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারেও প্রবেশ করতে পারে।

আগামী পদক্ষেপ কী হবে

সহযোগিতাকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথমত, এনজেডটিইর দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। দ্বিতীয়ত, ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটি ও চামড়া খাতের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ক্রেতাদের ভার্চুয়াল বিটুবি বৈঠকের আয়োজন করা হবে। তৃতীয়ত, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হবে।

এছাড়া উভয় দেশ দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক পরিষদ গঠন এবং যৌথ বাণিজ্য মেলা আয়োজনে একমত হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়।

বাংলাদেশের বিশাল বাজার ও উৎপাদন সক্ষমতা এবং নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা একত্রিত হলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।