ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দরে অবৈধ গ্যাস সংযোগে অভিযান, বিচ্ছিন্ন ২৫০ লাইন

বন্দরে অবৈধ গ্যাস সংযোগে অভিযান, বিচ্ছিন্ন ২৫০ লাইন

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এই অভিযানে প্রায় ২৫০টি আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তিতাস গ্যাসের জোনাল বিক্রয় অফিস-বন্দর এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। বন্দরের মদনপুর ও কুড়িপাড়া এলাকায় তিনটি পৃথক স্পটে অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল।

প্রথম স্পট: মদনপুরে বাণিজ্যিক ও আবাসিক সংযোগ জব্দ

অভিযানের প্রথম স্থান ছিল মদনপুরে বন্দর স্টিলের বিপরীতে। এখানে আবাসিক ও বাণিজ্যিক—দুই ধরনের অবৈধ সংযোগেরই সন্ধান মেলে।

কর্মকর্তারা প্রায় ৭টি বাণিজ্যিক বার্নার ও ১০০টি আবাসিক ডাবল বার্নার শনাক্ত করেন। এসব সংযোগে বাণিজ্যিক পর্যায়ে ঘণ্টায় প্রায় ৪৬০ ঘনফুট এবং আবাসিক পর্যায়ে প্রায় ২ হাজার ১০০ ঘনফুট গ্যাসের লোড ছিল।

অভিযানকারীরা বেশ কয়েকটি স্টার বার্নার, একটি মডিফাইড বার্নার, বিভিন্ন মাপের পাইপলাইন এবং দুটি রেগুলেটর অপসারণ করেন। এই স্পটে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

দ্বিতীয় স্পট: আকিব সিএনজি সংলগ্ন এলাকা

দ্বিতীয় অভিযান পরিচালিত হয় মদনপুরে আকিব সিএনজির পাশে। সেখানে ৩টি বাণিজ্যিক বার্নার ও ১০০টি আবাসিক ডাবল বার্নারের অবৈধ সংযোগ পাওয়া যায়।

এই সংযোগে বাণিজ্যিক লোড ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৭৫ ঘনফুট, আর আবাসিক লোড ছিল প্রায় ২ হাজার ১০০ ঘনফুট। অভিযানে তিনটি স্টার বার্নার অপসারণ করে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রথম ও দ্বিতীয় স্পটের অবৈধ লাইনের মূল উৎস একই স্থানে ছিল। তাই সেই মূল সংযোগস্থলে সরাসরি লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর ফলে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় ২০০টি আবাসিক সংযোগ একযোগে বন্ধ হয়ে যায়।

তৃতীয় স্পট: কুড়িপাড়ায় আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সবশেষে বন্দরের কুড়িপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এখানে প্রায় ৫০টি আবাসিক ডাবল বার্নারের সংযোগ পাওয়া যায়, যার সম্ভাব্য লোড ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৫০ ঘনফুট।

অভিযানকারীরা এক ইঞ্চি বিতরণ লাইনের মূল উৎসে সংযোগ কেটে দেন। ফলে প্রায় ৫০টি আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই স্পটে অবশ্য কোনো জরিমানা বা মামলা হয়নি।

ভবিষ্যতেও চলবে অভিযান

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। কারণ অবৈধ সংযোগ গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি করে। এছাড়া সরকারও এর ফলে বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।

তাই অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর ওপর জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হালাল অর্থনীতি: বাণিজ্যমন্ত্রীর নতুন দিকনির্দেশনা

বন্দরে অবৈধ গ্যাস সংযোগে অভিযান, বিচ্ছিন্ন ২৫০ লাইন

আপডেট সময় : ০৪:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এই অভিযানে প্রায় ২৫০টি আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তিতাস গ্যাসের জোনাল বিক্রয় অফিস-বন্দর এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। বন্দরের মদনপুর ও কুড়িপাড়া এলাকায় তিনটি পৃথক স্পটে অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল।

প্রথম স্পট: মদনপুরে বাণিজ্যিক ও আবাসিক সংযোগ জব্দ

অভিযানের প্রথম স্থান ছিল মদনপুরে বন্দর স্টিলের বিপরীতে। এখানে আবাসিক ও বাণিজ্যিক—দুই ধরনের অবৈধ সংযোগেরই সন্ধান মেলে।

কর্মকর্তারা প্রায় ৭টি বাণিজ্যিক বার্নার ও ১০০টি আবাসিক ডাবল বার্নার শনাক্ত করেন। এসব সংযোগে বাণিজ্যিক পর্যায়ে ঘণ্টায় প্রায় ৪৬০ ঘনফুট এবং আবাসিক পর্যায়ে প্রায় ২ হাজার ১০০ ঘনফুট গ্যাসের লোড ছিল।

অভিযানকারীরা বেশ কয়েকটি স্টার বার্নার, একটি মডিফাইড বার্নার, বিভিন্ন মাপের পাইপলাইন এবং দুটি রেগুলেটর অপসারণ করেন। এই স্পটে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

দ্বিতীয় স্পট: আকিব সিএনজি সংলগ্ন এলাকা

দ্বিতীয় অভিযান পরিচালিত হয় মদনপুরে আকিব সিএনজির পাশে। সেখানে ৩টি বাণিজ্যিক বার্নার ও ১০০টি আবাসিক ডাবল বার্নারের অবৈধ সংযোগ পাওয়া যায়।

এই সংযোগে বাণিজ্যিক লোড ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৭৫ ঘনফুট, আর আবাসিক লোড ছিল প্রায় ২ হাজার ১০০ ঘনফুট। অভিযানে তিনটি স্টার বার্নার অপসারণ করে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রথম ও দ্বিতীয় স্পটের অবৈধ লাইনের মূল উৎস একই স্থানে ছিল। তাই সেই মূল সংযোগস্থলে সরাসরি লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর ফলে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় ২০০টি আবাসিক সংযোগ একযোগে বন্ধ হয়ে যায়।

তৃতীয় স্পট: কুড়িপাড়ায় আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সবশেষে বন্দরের কুড়িপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এখানে প্রায় ৫০টি আবাসিক ডাবল বার্নারের সংযোগ পাওয়া যায়, যার সম্ভাব্য লোড ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৫০ ঘনফুট।

অভিযানকারীরা এক ইঞ্চি বিতরণ লাইনের মূল উৎসে সংযোগ কেটে দেন। ফলে প্রায় ৫০টি আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই স্পটে অবশ্য কোনো জরিমানা বা মামলা হয়নি।

ভবিষ্যতেও চলবে অভিযান

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। কারণ অবৈধ সংযোগ গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি করে। এছাড়া সরকারও এর ফলে বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।

তাই অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর ওপর জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।