ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওমানকে বোমা হামলার হুমকি দিলেন ট্রাম্প 

ওমানকে বোমা হামলার হুমকি দিলেন ট্রাম্প 

ইরানের সঙ্গে মার্কিন চুক্তি প্রচেষ্টায় বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

তাই যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান আলাদাভাবে এই জলপথ চালুর চেষ্টা করছে। কিন্তু ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও ওমানের মধ্যে চলা আলোচনা

এর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতার কথা জানায় ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, জাহাজ চলাচলের নতুন মানচিত্র নিয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

পাশাপাশি ওমানও এই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছে। জলপথটির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ওমান নিজেকে এই সংঘাতে নিরপেক্ষ দাবি করে।

তবে ওমান বেশ কয়েকবার ইরানি হামলার শিকার হয়েছে। তা সত্ত্বেও দেশটি নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবি ও ফি আরোপ

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পেলেই কেবল হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা সম্ভব।

তেহরান দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র পূর্বের সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে। তাই এই প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজের পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা।

কিন্তু ট্রাম্প এই দরকষাকষিকে পাত্তা দিচ্ছেন না। তিনি জানান, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কোনো তাড়াহুড়ো তার নেই।

আইআরজিসি ও ব্যাকচ্যানেল বিতাক

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সাথে তাদের ব্যাকচ্যানেল যোগাযোগ রয়েছে।

তবে আইআরজিসি ট্রাম্পের এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তাদের মুখপাত্র এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ এবং ট্রাম্পের ‘কল্পনা’ বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি সমঝোতা ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। ফলে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাইফ বীমার সিইওদের সনদ ও নিয়োগের তথ্য চেয়েছে আইডিআরএ

ওমানকে বোমা হামলার হুমকি দিলেন ট্রাম্প 

আপডেট সময় : ০১:০৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের সঙ্গে মার্কিন চুক্তি প্রচেষ্টায় বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

তাই যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান আলাদাভাবে এই জলপথ চালুর চেষ্টা করছে। কিন্তু ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও ওমানের মধ্যে চলা আলোচনা

এর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতার কথা জানায় ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, জাহাজ চলাচলের নতুন মানচিত্র নিয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

পাশাপাশি ওমানও এই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছে। জলপথটির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ওমান নিজেকে এই সংঘাতে নিরপেক্ষ দাবি করে।

তবে ওমান বেশ কয়েকবার ইরানি হামলার শিকার হয়েছে। তা সত্ত্বেও দেশটি নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবি ও ফি আরোপ

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পেলেই কেবল হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা সম্ভব।

তেহরান দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র পূর্বের সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে। তাই এই প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজের পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা।

কিন্তু ট্রাম্প এই দরকষাকষিকে পাত্তা দিচ্ছেন না। তিনি জানান, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কোনো তাড়াহুড়ো তার নেই।

আইআরজিসি ও ব্যাকচ্যানেল বিতাক

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সাথে তাদের ব্যাকচ্যানেল যোগাযোগ রয়েছে।

তবে আইআরজিসি ট্রাম্পের এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তাদের মুখপাত্র এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ এবং ট্রাম্পের ‘কল্পনা’ বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি সমঝোতা ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। ফলে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।