৫ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে এই বিক্ষোভ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দেন, দাবি মানা না হলে আগামী ১২ মার্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘেরাও করা হবে।
বিক্ষোভ চলাকালীন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ফটক দিয়ে কর্মকর্তাদের যাতায়াত ব্যাহত হলে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে ব্যাংকের প্রবেশপথ সচল রাখে।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান অভিযোগ হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের নেওয়া একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। তারা জানান, শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নিয়ে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি অনুকম্পা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমানতকারীরা একে ‘অমানবিক’ ও ‘অন্যায্য’ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে ঘোষিত মুনাফা প্রদানের দাবি জানান।
আন্দোলনকারীরা বলেন, গত দুই বছর ধরে হাজার হাজার আমানতকারী ব্যাংক থেকে তাদের মূলধন ও লভ্যাংশ তুলতে পারছেন না। এর ফলে অনেক পরিবার চরম আর্থিক অনটনে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
আমানতকারীদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
-
বিতর্কিত ‘হেয়ার কাট’ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
-
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফাসহ আমানতের পূর্ণ অর্থ ফেরত দিতে হবে।
-
তফসিলি ব্যাংকগুলোর সব ধরনের লেনদেন দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে।
উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থ সংকটে পড়া পাঁচটি ব্যাংক— এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে। তবে ব্যাংকগুলো এখনো গ্রাহকদের আমানতের টাকা ও মুনাফা ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারছে না, যা থেকে এই অসন্তোষের সূত্রপাত।
























