ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের ছুটিতে যেতে পারেন হিমালয় কন্যাখ্যাত পঞ্চগড়ের যেসব স্থানে

দেশের একেবারে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। হিমালয় পর্বতমালার সান্নিধ্যে থাকায় একে বলা হয় ‘হিমালয়ের কন্যা’। শীতকালে আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকেই দেখা মেলে পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার শুভ্র চূড়া। তিনদিক ভারতীয় সীমান্তে ঘেরা এই জনপদ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস আর সীমান্তঘেঁষা বৈচিত্র্যে ভরপুর। ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপিপাসুরা চাইলে ঘুরে আসতে পারেন শান্ত-স্নিগ্ধ এই জেলায়।

কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন পঞ্চগড়ের প্রধান আকর্ষণ হলেও এই জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে, মির্জাপুর শাহী মসজিদ, মহারাজার দিঘী, সমতলের চা বাগান, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, রকস মিউজিয়াম, তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো, বোদেশ্বরী মন্দির।

মির্জাপুর শাহী মসজিদ বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এটি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে। জেলাশহর থেকে এর দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। শিলালিপি ও স্থাপত্যরীতি বিশ্লেষণ করে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা ধারণা করেন, ১৬৫৬ সালে মুঘল আমলে এটি নির্মিত হয়। কারও মতে মালিক উদ্দিন, আবার কারও মতে দোস্ত মোহাম্মদ নামের একজন ব্যক্তি নির্মাণকাজ শেষ করেন।

মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ ফুট ও প্রস্থ ২৫ ফুট। একই সারিতে তিনটি গম্বুজ এবং কোণায় মিনার মুঘল স্থাপত্যরীতির স্পষ্ট ছাপ দেখা যায় এখানে। দেওয়ালের টেরাকোটার নকশাগুলো একটির সঙ্গে আরেকটির মিল নেই প্রতিটি আলাদা কারুকাজে নির্মিত। ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমীদের জন্য এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি স্থান।

পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ভিতরগড় এলাকায় প্রায় ৫৪ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত মহারাজার দিঘী। প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো এই জলাধার ঘিরে রয়েছে পৃথু রাজা ও ভিতরগড় দুর্গনগরীর ইতিহাস।

ইটবাঁধানো ১০টি ঘাট, প্রায় ২০ ফুট উঁচু পাড় আর সবুজ গাছপালায় ঘেরা দিঘির পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, পৃথু রাজা আত্মমর্যাদা রক্ষায় পরিবারসহ এই দিঘিতে আত্মাহুতি দেন। ইতিহাসের সেই স্মৃতি বুকে নিয়ে আজও দিঘিটি দর্শনার্থীদের টানে।

সমতলের চা বাগান পঞ্চগড় জেলায় সমতলে অসংখ্য ছোট-বড় চা বাগান সৌন্দর্য বর্ধন করেছে। সারি সারি চা গাছ ভ্রমণপিপাসুদের নজর কাড়ে ২০০০ সালে এ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে চা চাষ শুরু হয়। কাজী এন্ড কাজী, এমএমটি, স্যালিলনসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির টি স্টেট দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করবে।

তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নে অবস্থিত এই জিরো পয়েন্টকে বলা হয় বাংলাদেশের মানচিত্রের সূচনা বিন্দু। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখার পাশে দাঁড়িয়ে একইসঙ্গে সীমান্তের আবহ ও প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

শনিবার ও মঙ্গলবার বিকেলে সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের যৌথ প্যারেড দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। কাছেই ভারতের ফুলবাড়ী আর শিলিগুড়ি শহরের দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরে রয়েছে এক হাজারের বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক ও লোকজ সংগ্রহ। আগ্নেয়শিলা, পাললিক শিলা, নুড়িপাথর, খনিজবালি, প্রাচীন ইট, পোড়ামাটির মূর্তি থেকে শুরু করে মুঘল ও ব্রিটিশ আমলের মুদ্রা সবই এখানে সংরক্ষিত।

আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ব্যবহার্য সামগ্রী এবং হাজার বছরের পুরোনো নৌকাও রয়েছে সংগ্রহে। শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য এটি এক অনন্য জ্ঞানভান্ডার।

তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা শহরেই ভারতের সীমান্তবর্তী মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষে ঐতিহাসিক তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো অবস্থিত। ভিক্টোরিয়ান রীতিতে কুচবিহারের রাজা ভূমি থেকে প্রায় ১৫-২০ মিটার উঁচু গড়ের ওপর এই ডাক বাংলোটি নির্মাণ করেছিলেন। বর্ষাকালে তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো থেকে মহানন্দা নদীর অপূর্ব সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এ ছাড়া, এই স্থান থেকে হেমন্ত ও শীতকালে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার চুড়া দেখা যায়। বর্তমানে জেলা পরিষদের অধীনে থাকা তেঁতুলিয়া ডাক বাংলোটিতে একটি পিকনিক কর্ণার নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এই ডাক বাংলোটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়।

বোদা উপজেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত কারুকার্যমণ্ডিত বোদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির। প্রায় ২ দশমিক ৭৮ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই প্রাচীন মন্দিরকে ঘিরেই বোদা উপজেলার নামকরণ হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

ঢাকার শ্যামলী, গাবতলী ও মিরপুর থেকে নাবিল পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন বাসে সরাসরি পঞ্চগড় যাওয়া যায়। ভাড়া নন-এসি ৯০০-১১০০ টাকা এবং এসি ১৭০০-১৯০০ টাকার মধ্যে।

ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করা যায়। শ্রেণিভেদে ভাড়া ৭৪০ থেকে ২৫৯৮ টাকা পর্যন্ত।

পঞ্চগড় জেলা শহরে সেন্ট্রাল গেস্ট হাউজ, হোটেল মৌচাক, হোটেল রাজনগর, হিলটন বোর্ডিং, এইচ কে প্যালেস ও হোটেল প্রীতমসহ বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। এ ছাড়া, সরকারি রেস্ট হাউস ও তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোতে আগাম বুকিংয়ের মাধ্যমে থাকা যায়।

ঈদের ছুটিতে যেতে পারেন হিমালয় কন্যাখ্যাত পঞ্চগড়ের যেসব স্থানে

আপডেট সময় : ০৩:০৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

দেশের একেবারে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। হিমালয় পর্বতমালার সান্নিধ্যে থাকায় একে বলা হয় ‘হিমালয়ের কন্যা’। শীতকালে আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকেই দেখা মেলে পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার শুভ্র চূড়া। তিনদিক ভারতীয় সীমান্তে ঘেরা এই জনপদ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস আর সীমান্তঘেঁষা বৈচিত্র্যে ভরপুর। ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপিপাসুরা চাইলে ঘুরে আসতে পারেন শান্ত-স্নিগ্ধ এই জেলায়।

কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন পঞ্চগড়ের প্রধান আকর্ষণ হলেও এই জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে, মির্জাপুর শাহী মসজিদ, মহারাজার দিঘী, সমতলের চা বাগান, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, রকস মিউজিয়াম, তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো, বোদেশ্বরী মন্দির।

মির্জাপুর শাহী মসজিদ বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এটি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে। জেলাশহর থেকে এর দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। শিলালিপি ও স্থাপত্যরীতি বিশ্লেষণ করে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা ধারণা করেন, ১৬৫৬ সালে মুঘল আমলে এটি নির্মিত হয়। কারও মতে মালিক উদ্দিন, আবার কারও মতে দোস্ত মোহাম্মদ নামের একজন ব্যক্তি নির্মাণকাজ শেষ করেন।

মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ ফুট ও প্রস্থ ২৫ ফুট। একই সারিতে তিনটি গম্বুজ এবং কোণায় মিনার মুঘল স্থাপত্যরীতির স্পষ্ট ছাপ দেখা যায় এখানে। দেওয়ালের টেরাকোটার নকশাগুলো একটির সঙ্গে আরেকটির মিল নেই প্রতিটি আলাদা কারুকাজে নির্মিত। ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমীদের জন্য এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি স্থান।

পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ভিতরগড় এলাকায় প্রায় ৫৪ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত মহারাজার দিঘী। প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো এই জলাধার ঘিরে রয়েছে পৃথু রাজা ও ভিতরগড় দুর্গনগরীর ইতিহাস।

ইটবাঁধানো ১০টি ঘাট, প্রায় ২০ ফুট উঁচু পাড় আর সবুজ গাছপালায় ঘেরা দিঘির পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, পৃথু রাজা আত্মমর্যাদা রক্ষায় পরিবারসহ এই দিঘিতে আত্মাহুতি দেন। ইতিহাসের সেই স্মৃতি বুকে নিয়ে আজও দিঘিটি দর্শনার্থীদের টানে।

সমতলের চা বাগান পঞ্চগড় জেলায় সমতলে অসংখ্য ছোট-বড় চা বাগান সৌন্দর্য বর্ধন করেছে। সারি সারি চা গাছ ভ্রমণপিপাসুদের নজর কাড়ে ২০০০ সালে এ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে চা চাষ শুরু হয়। কাজী এন্ড কাজী, এমএমটি, স্যালিলনসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির টি স্টেট দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করবে।

তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নে অবস্থিত এই জিরো পয়েন্টকে বলা হয় বাংলাদেশের মানচিত্রের সূচনা বিন্দু। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখার পাশে দাঁড়িয়ে একইসঙ্গে সীমান্তের আবহ ও প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

শনিবার ও মঙ্গলবার বিকেলে সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের যৌথ প্যারেড দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। কাছেই ভারতের ফুলবাড়ী আর শিলিগুড়ি শহরের দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরে রয়েছে এক হাজারের বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক ও লোকজ সংগ্রহ। আগ্নেয়শিলা, পাললিক শিলা, নুড়িপাথর, খনিজবালি, প্রাচীন ইট, পোড়ামাটির মূর্তি থেকে শুরু করে মুঘল ও ব্রিটিশ আমলের মুদ্রা সবই এখানে সংরক্ষিত।

আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ব্যবহার্য সামগ্রী এবং হাজার বছরের পুরোনো নৌকাও রয়েছে সংগ্রহে। শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য এটি এক অনন্য জ্ঞানভান্ডার।

তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা শহরেই ভারতের সীমান্তবর্তী মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষে ঐতিহাসিক তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো অবস্থিত। ভিক্টোরিয়ান রীতিতে কুচবিহারের রাজা ভূমি থেকে প্রায় ১৫-২০ মিটার উঁচু গড়ের ওপর এই ডাক বাংলোটি নির্মাণ করেছিলেন। বর্ষাকালে তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো থেকে মহানন্দা নদীর অপূর্ব সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এ ছাড়া, এই স্থান থেকে হেমন্ত ও শীতকালে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার চুড়া দেখা যায়। বর্তমানে জেলা পরিষদের অধীনে থাকা তেঁতুলিয়া ডাক বাংলোটিতে একটি পিকনিক কর্ণার নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এই ডাক বাংলোটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়।

বোদা উপজেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত কারুকার্যমণ্ডিত বোদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির। প্রায় ২ দশমিক ৭৮ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই প্রাচীন মন্দিরকে ঘিরেই বোদা উপজেলার নামকরণ হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

ঢাকার শ্যামলী, গাবতলী ও মিরপুর থেকে নাবিল পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন বাসে সরাসরি পঞ্চগড় যাওয়া যায়। ভাড়া নন-এসি ৯০০-১১০০ টাকা এবং এসি ১৭০০-১৯০০ টাকার মধ্যে।

ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করা যায়। শ্রেণিভেদে ভাড়া ৭৪০ থেকে ২৫৯৮ টাকা পর্যন্ত।

পঞ্চগড় জেলা শহরে সেন্ট্রাল গেস্ট হাউজ, হোটেল মৌচাক, হোটেল রাজনগর, হিলটন বোর্ডিং, এইচ কে প্যালেস ও হোটেল প্রীতমসহ বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। এ ছাড়া, সরকারি রেস্ট হাউস ও তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোতে আগাম বুকিংয়ের মাধ্যমে থাকা যায়।