ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে দিলে বাড়বে ঝুঁকি: আনু মুহাম্মদ

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে দিলে বাড়বে ঝুঁকি: আনু মুহাম্মদ

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দিলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এই মন্তব্য করেন। ‘মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটি’ ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে।

চুক্তিতে অস্বচ্ছতা ও ধারাবাহিক তৎপরতা

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ পুরোনো। তিনি জানান, সরকার বদল হলেও নীতি নির্ধারকদের কাজেরধারায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে কিছু বিশেষ গোষ্ঠী গোপনীয়তা বজায় রেখে একই তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর যুক্তি জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। তবে সরকার এ সংক্রান্ত প্রশ্নের কোনো বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দিচ্ছে না। পাশাপাশি চুক্তিগুলোও সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

এনসিটি টার্মিনাল ও জাতীয় সক্ষমতা

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালকে (এনসিটি) তিনি রাষ্ট্রের একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন। এতে সরকারের বিপুল অর্থ বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব উদ্বৃত্ত তহবিলও জমে আছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্দরের মাসুল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক।

বাংলাদেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে চট্টগ্রাম বন্দর। ফলে এই বন্দরটি দেশের অর্থনীতির মূল ‘হৃদপিণ্ড’ হিসেবে পরিচিত। এই কারণে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পদকে অন্য সাধারণ বন্দরের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।

দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার

বন্দর সচল ও দক্ষ রাখতে কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি। একই সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং জাতীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন। তবে বহুজাতিক কোম্পানি আনলেই এসব মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

আলোচনাসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা বিদেশি অপারেটর নিয়োগের আগে দীর্ঘমেয়াদি পর্যালোচনার আহ্বান জানান। এছাড়া অন্যান্য বক্তারা জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে চুক্তি প্রকাশের দাবি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে দিলে বাড়বে ঝুঁকি: আনু মুহাম্মদ

আপডেট সময় : ১২:৩২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দিলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এই মন্তব্য করেন। ‘মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটি’ ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে।

চুক্তিতে অস্বচ্ছতা ও ধারাবাহিক তৎপরতা

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ পুরোনো। তিনি জানান, সরকার বদল হলেও নীতি নির্ধারকদের কাজেরধারায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে কিছু বিশেষ গোষ্ঠী গোপনীয়তা বজায় রেখে একই তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর যুক্তি জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। তবে সরকার এ সংক্রান্ত প্রশ্নের কোনো বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দিচ্ছে না। পাশাপাশি চুক্তিগুলোও সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

এনসিটি টার্মিনাল ও জাতীয় সক্ষমতা

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালকে (এনসিটি) তিনি রাষ্ট্রের একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন। এতে সরকারের বিপুল অর্থ বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব উদ্বৃত্ত তহবিলও জমে আছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্দরের মাসুল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক।

বাংলাদেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে চট্টগ্রাম বন্দর। ফলে এই বন্দরটি দেশের অর্থনীতির মূল ‘হৃদপিণ্ড’ হিসেবে পরিচিত। এই কারণে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পদকে অন্য সাধারণ বন্দরের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।

দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার

বন্দর সচল ও দক্ষ রাখতে কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি। একই সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং জাতীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন। তবে বহুজাতিক কোম্পানি আনলেই এসব মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

আলোচনাসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা বিদেশি অপারেটর নিয়োগের আগে দীর্ঘমেয়াদি পর্যালোচনার আহ্বান জানান। এছাড়া অন্যান্য বক্তারা জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে চুক্তি প্রকাশের দাবি জানান।