ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে

সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। তাকে দেশে ফেরানোর জন্য জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম সংসদ অধিবেশনে একটি প্রস্তাব তোলেন। তিনি বেনজীরকে সেন্ট লুসিয়া থেকে ফেরানোর কথা বলেন। তবে এই তথ্যের সংশোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সংবাদের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এই দাবি করা হয়েছে। আমাদের দূতাবাস আমিরাত সরকারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেছে। সেখানকার কর্তৃপক্ষ তার দেশত্যাগের বিষয়ে কিছু জানে না। ফলে তিনি এখনো আমিরাতেই অবস্থান করছেন।

আমিরাতের ওপর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আমাদের দূতাবাস আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করেছে। তারা সাবেক এই কর্মকর্তার ওপর নজর রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। দেশের বিচারের হাত থেকে কোনো অপরাধী রেহাই পাবে না। পালিয়ে যাওয়া সব সন্ত্রাসীকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি কোনো বন্দি বিনিময় চুক্তি নেই। তবে বিশেষ বিবেচনায় অপরাধী প্রত্যর্পণের সুযোগ রয়েছে। তাই সরকার কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে। আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছে। সরকার বিশেষ সুবিধায় এই অভিযুক্তকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়।

বেনজীরকে জাতির দুশমন আখ্যা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বেনজীর আহমেদকে ‘খুনি’ এবং ‘জাতির দুশমন’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে সে মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। সে শুধু বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করেনি, সাধারণ মানুষকেও সত্য মামলায় ফাঁসিয়েছে। তাই এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

অধিবেশনে তিনি সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিরোধী দলগুলো ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে। ফলে বিরোধী নেতাকর্মীদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

গুম ও বিচার প্রক্রিয়া ত্বরাণ্বিত করার আশ্বাস

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, ইলিয়াস আলীকে গুম করার সাথে কর্নেল জিয়ার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। সরকার এই ধরনের সব অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। দেশ লুট ও মানুষ হত্যা করে যারা বিদেশে পালিয়েছে, তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনা হবে। তাই অপরাধীদের শাস্তির মুখোমুখি করতে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে

আপডেট সময় : ০১:২০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। তাকে দেশে ফেরানোর জন্য জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম সংসদ অধিবেশনে একটি প্রস্তাব তোলেন। তিনি বেনজীরকে সেন্ট লুসিয়া থেকে ফেরানোর কথা বলেন। তবে এই তথ্যের সংশোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সংবাদের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এই দাবি করা হয়েছে। আমাদের দূতাবাস আমিরাত সরকারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেছে। সেখানকার কর্তৃপক্ষ তার দেশত্যাগের বিষয়ে কিছু জানে না। ফলে তিনি এখনো আমিরাতেই অবস্থান করছেন।

আমিরাতের ওপর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আমাদের দূতাবাস আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করেছে। তারা সাবেক এই কর্মকর্তার ওপর নজর রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। দেশের বিচারের হাত থেকে কোনো অপরাধী রেহাই পাবে না। পালিয়ে যাওয়া সব সন্ত্রাসীকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি কোনো বন্দি বিনিময় চুক্তি নেই। তবে বিশেষ বিবেচনায় অপরাধী প্রত্যর্পণের সুযোগ রয়েছে। তাই সরকার কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে। আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছে। সরকার বিশেষ সুবিধায় এই অভিযুক্তকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়।

বেনজীরকে জাতির দুশমন আখ্যা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বেনজীর আহমেদকে ‘খুনি’ এবং ‘জাতির দুশমন’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে সে মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। সে শুধু বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করেনি, সাধারণ মানুষকেও সত্য মামলায় ফাঁসিয়েছে। তাই এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

অধিবেশনে তিনি সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিরোধী দলগুলো ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে। ফলে বিরোধী নেতাকর্মীদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

গুম ও বিচার প্রক্রিয়া ত্বরাণ্বিত করার আশ্বাস

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, ইলিয়াস আলীকে গুম করার সাথে কর্নেল জিয়ার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। সরকার এই ধরনের সব অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। দেশ লুট ও মানুষ হত্যা করে যারা বিদেশে পালিয়েছে, তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনা হবে। তাই অপরাধীদের শাস্তির মুখোমুখি করতে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।