ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাব আল-মান্দেবে হুতি, সৌদির তেল পাইপলাইন বন্ধ

হুতিরা পেরিম দ্বীপে পৌঁছানোয় ও ড্রোন হামলায় সৌদি তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির পেরিম দ্বীপে পৌঁছে গেছে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা। একই সময়ে ইরাক থেকে পরিচালিত ড্রোন হামলার পর সৌদির তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার ইয়েমেন সরকারের সূত্রগুলো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে হুতিদের এই দ্বীপ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে গোষ্ঠীটির একক প্রভাব আরও মজবুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সৌদির তেল পাইপলাইন বন্ধ ও সরবরাহে সংকট

ইরাক থেকে পরিচালিত ড্রোনের মাধ্যমে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের অবকাঠামোয় একাধিক আঘাত হানা হয়। ফলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব তাদের প্রধান পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে সৌদি আরব এই ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটি ব্যবহার করে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়। এটি বৈশ্বিক মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ। ফলে ড্রোন হামলার পর সৌদি তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় রিয়াদ

পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় নিরাপত্তা জোরদারে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপ করেছেন।

তবে ওয়াশিংটন আপাতত সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিতে রাজি হয়নি। কিন্তু তারা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সঠিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে রিয়াদকে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর প্রভাব

ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী পেরিম দ্বীপ থেকে সরে গেছে। একই সাথে লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর ধুবাবও এখন হুতিদের দখলে রয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান নৌপথ হুতিদের প্রভাব বলয়ে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের তেল সরবরাহ গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার মুখে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাব আল-মান্দেবে হুতি, সৌদির তেল পাইপলাইন বন্ধ

আপডেট সময় : ১০:৫১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির পেরিম দ্বীপে পৌঁছে গেছে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা। একই সময়ে ইরাক থেকে পরিচালিত ড্রোন হামলার পর সৌদির তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার ইয়েমেন সরকারের সূত্রগুলো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে হুতিদের এই দ্বীপ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে গোষ্ঠীটির একক প্রভাব আরও মজবুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সৌদির তেল পাইপলাইন বন্ধ ও সরবরাহে সংকট

ইরাক থেকে পরিচালিত ড্রোনের মাধ্যমে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের অবকাঠামোয় একাধিক আঘাত হানা হয়। ফলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব তাদের প্রধান পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে সৌদি আরব এই ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটি ব্যবহার করে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়। এটি বৈশ্বিক মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ। ফলে ড্রোন হামলার পর সৌদি তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় রিয়াদ

পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় নিরাপত্তা জোরদারে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপ করেছেন।

তবে ওয়াশিংটন আপাতত সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিতে রাজি হয়নি। কিন্তু তারা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সঠিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে রিয়াদকে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর প্রভাব

ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী পেরিম দ্বীপ থেকে সরে গেছে। একই সাথে লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর ধুবাবও এখন হুতিদের দখলে রয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান নৌপথ হুতিদের প্রভাব বলয়ে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের তেল সরবরাহ গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার মুখে রয়েছে।