ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রুশ ট্যাংকার



ফটোকার্ড ডাউনলোড

রাশিয়ার বন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে ৪০ হাজার টন ডিজেলবাহী তিনটি ট্যাংকার। নতুন আমদানি চুক্তির আওতায় রাশিয়ার প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলো উত্তর আমেরিকার দিকে যাচ্ছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক এ তথ্য জানিয়েছেন। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর মস্কোর সঙ্গে ডিজেল চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার দুই সপ্তাহ পর এ ঘটনা ঘটল। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা হিসেবে এই চুক্তিকে দেখা হচ্ছে।

রয়টার্সের বরাতে নোভাক বলেন, ‘রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) উল্লেখযোগ্য সহযোগিতায় জ্বালানিবাহী প্রথম তিনটি ট্যাংকার ইতোমধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ব উপকূলের দিকে যাত্রা করেছে।’

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামুদ্রিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার প্রথম ট্যাংকারটি নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রার সংকেত দিয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর জাহাজটির সেখানে পৌঁছানোর কথা।

ডিজেল চুক্তির ঘোষণায় ইউক্রেনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একে ‘শক্তিশালী অংশীদারদের দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের নেতাদের কাছ থেকেও সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে মার্কিন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও ওঠে।

এই চুক্তির মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত মাসেই রাশিয়ার জ্বালানি কেনে এমন শীর্ষ পাঁচ দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রেখে একটি বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজে সই করেছিলেন ট্রাম্প। তবে পরে এসব পদক্ষেপ স্থগিত রাখা হয়।

মস্কোর প্রতি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নমনীয় পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ডিজেল সরবরাহের চুক্তি অন্যতম। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত বন্ধে জেলেনস্কি আগ্রহী নন বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

রাশিয়ার ডিজেলবাহী ট্যাংকার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও। তিনি বলেন, ‘প্রথম তেলবাহী ট্যাংকারটি ক্রেতাদের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। নিয়মিত সরবরাহও অব্যাহত থাকবে।’

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী নোভাক জানিয়েছিলেন, তিনটি ট্যাংকারে করে প্রথম চালানে ৪০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।

এপি জানিয়েছে, এই পরিমাণ ডিজেল প্রায় ৩ লাখ ব্যারেলের সমান। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল ডিজেল ব্যবহার করে। সেই হিসাবে রাশিয়ার প্রথম চালানের পরিমাণ দেশটির এক দিনের মোট ডিজেল ব্যবহারের প্রায় ৭ শতাংশ।

নোভাক আরও জানিয়েছিলেন, অক্টোবর মাসে রাশিয়ার কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ৫ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করতে পারে।

এর আগে চুক্তির ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

জনপ্রিয় সংবাদ

বলাৎকারের ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার

৪০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রুশ ট্যাংকার

আপডেট সময় : ০১:০০:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

রাশিয়ার বন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে ৪০ হাজার টন ডিজেলবাহী তিনটি ট্যাংকার। নতুন আমদানি চুক্তির আওতায় রাশিয়ার প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলো উত্তর আমেরিকার দিকে যাচ্ছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক এ তথ্য জানিয়েছেন। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর মস্কোর সঙ্গে ডিজেল চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার দুই সপ্তাহ পর এ ঘটনা ঘটল। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা হিসেবে এই চুক্তিকে দেখা হচ্ছে।

রয়টার্সের বরাতে নোভাক বলেন, ‘রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) উল্লেখযোগ্য সহযোগিতায় জ্বালানিবাহী প্রথম তিনটি ট্যাংকার ইতোমধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ব উপকূলের দিকে যাত্রা করেছে।’

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামুদ্রিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার প্রথম ট্যাংকারটি নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রার সংকেত দিয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর জাহাজটির সেখানে পৌঁছানোর কথা।

ডিজেল চুক্তির ঘোষণায় ইউক্রেনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একে ‘শক্তিশালী অংশীদারদের দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের নেতাদের কাছ থেকেও সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে মার্কিন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও ওঠে।

এই চুক্তির মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত মাসেই রাশিয়ার জ্বালানি কেনে এমন শীর্ষ পাঁচ দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রেখে একটি বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজে সই করেছিলেন ট্রাম্প। তবে পরে এসব পদক্ষেপ স্থগিত রাখা হয়।

মস্কোর প্রতি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নমনীয় পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ডিজেল সরবরাহের চুক্তি অন্যতম। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত বন্ধে জেলেনস্কি আগ্রহী নন বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

রাশিয়ার ডিজেলবাহী ট্যাংকার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও। তিনি বলেন, ‘প্রথম তেলবাহী ট্যাংকারটি ক্রেতাদের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। নিয়মিত সরবরাহও অব্যাহত থাকবে।’

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী নোভাক জানিয়েছিলেন, তিনটি ট্যাংকারে করে প্রথম চালানে ৪০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।

এপি জানিয়েছে, এই পরিমাণ ডিজেল প্রায় ৩ লাখ ব্যারেলের সমান। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল ডিজেল ব্যবহার করে। সেই হিসাবে রাশিয়ার প্রথম চালানের পরিমাণ দেশটির এক দিনের মোট ডিজেল ব্যবহারের প্রায় ৭ শতাংশ।

নোভাক আরও জানিয়েছিলেন, অক্টোবর মাসে রাশিয়ার কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ৫ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করতে পারে।

এর আগে চুক্তির ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস