ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানি মন্ত্রীকে দিল্লির আমন্ত্রণ, সম্পর্কে কি নতুন মোড়?



ফটোকার্ড ডাউনলোড

২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পর পাকিস্তানের কোনো মন্ত্রীকে ভারতে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনা এটিই প্রথম। এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে গোয়ায় এসসিওর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির ঐতিহাসিক পুরানা কেল্লায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আয়োজনটির দায়িত্বে রয়েছে।

সব সদস্যদেশকে আমন্ত্রণ

এসসিওর ১০ সদস্যদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি সংস্থাটির ১৫টি সংলাপ সহযোগী ও পর্যবেক্ষক দেশের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি আলাদা কোনো দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ নয়, বরং বহুপক্ষীয় আয়োজনের অংশ—এমনটাই মনে করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের তিয়ানজিনে এসসিওর শীর্ষ সম্মেলনে সভ্যতা সংলাপ ফোরামের প্রস্তাব দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। পরে সংস্থাটি প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। ইউরেশীয় দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানো, অভিন্ন ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

সম্পর্কের টানাপোড়েন এখনো বহাল

২০১৬ সালে পাঠানকোট ও উরি হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলা এবং পরবর্তী সামরিক সংঘাত সেই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থবির রাখলেও এসসিওর মতো বহুপক্ষীয় মঞ্চে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে এসসিওর সরকারপ্রধান পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে ইসলামাবাদ সফর করেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের এসসিও সভাপতিত্ব এবং পরবর্তী সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে ভারতীয় প্রতিনিধিদলও পাঠানো হয়।

আগামী ২০২৭ সালের আগস্টে এসসিওর রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করার কথা পাকিস্তানের। সেখানে ভারত কোন পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পাকিস্তান যাবে কি না, নজর সেদিকে

দিল্লির আমন্ত্রণ গ্রহণ করে পাকিস্তান কাকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাবে, তা এখনো নিশ্চিত করেনি ইসলামাবাদ। আওরঙ্গজেব খান খিচি সম্মেলনে যোগ দিলে তা হবে ২০২৩ সালের পর ভারতে পাকিস্তানের কোনো মন্ত্রীর প্রথম সফর।

তবে এই সফর হলেও তা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটাবে— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং সাংস্কৃতিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্র সচল রেখে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা সামাল দেওয়ার কৌশল হিসেবেই দিল্লির এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানি মন্ত্রীকে দিল্লির আমন্ত্রণ, সম্পর্কে কি নতুন মোড়?

আপডেট সময় : ১১:১২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পর পাকিস্তানের কোনো মন্ত্রীকে ভারতে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনা এটিই প্রথম। এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে গোয়ায় এসসিওর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির ঐতিহাসিক পুরানা কেল্লায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আয়োজনটির দায়িত্বে রয়েছে।

সব সদস্যদেশকে আমন্ত্রণ

এসসিওর ১০ সদস্যদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি সংস্থাটির ১৫টি সংলাপ সহযোগী ও পর্যবেক্ষক দেশের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি আলাদা কোনো দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ নয়, বরং বহুপক্ষীয় আয়োজনের অংশ—এমনটাই মনে করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের তিয়ানজিনে এসসিওর শীর্ষ সম্মেলনে সভ্যতা সংলাপ ফোরামের প্রস্তাব দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। পরে সংস্থাটি প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। ইউরেশীয় দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানো, অভিন্ন ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

সম্পর্কের টানাপোড়েন এখনো বহাল

২০১৬ সালে পাঠানকোট ও উরি হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলা এবং পরবর্তী সামরিক সংঘাত সেই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থবির রাখলেও এসসিওর মতো বহুপক্ষীয় মঞ্চে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে এসসিওর সরকারপ্রধান পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে ইসলামাবাদ সফর করেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের এসসিও সভাপতিত্ব এবং পরবর্তী সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে ভারতীয় প্রতিনিধিদলও পাঠানো হয়।

আগামী ২০২৭ সালের আগস্টে এসসিওর রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করার কথা পাকিস্তানের। সেখানে ভারত কোন পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পাকিস্তান যাবে কি না, নজর সেদিকে

দিল্লির আমন্ত্রণ গ্রহণ করে পাকিস্তান কাকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাবে, তা এখনো নিশ্চিত করেনি ইসলামাবাদ। আওরঙ্গজেব খান খিচি সম্মেলনে যোগ দিলে তা হবে ২০২৩ সালের পর ভারতে পাকিস্তানের কোনো মন্ত্রীর প্রথম সফর।

তবে এই সফর হলেও তা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটাবে— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং সাংস্কৃতিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্র সচল রেখে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা সামাল দেওয়ার কৌশল হিসেবেই দিল্লির এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।