ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ জুলাই থেকে কার্যকর নতুন বেতন স্কেল, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগেও পরিবর্তন



ফটোকার্ড ডাউনলোড

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকরের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে আটটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন অসামরিক পদে জনস্বার্থে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে সই করেছেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ নজরুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণে নতুন সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে নিয়োগ পাবেন—উভয় শ্রেণির ব্যক্তির ক্ষেত্রে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনের আটটি সিদ্ধান্ত হলো—
২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর বিভিন্ন গ্রেডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া যেসব কর্মচারীর চুক্তির মেয়াদ ১ জুলাইয়ের পরও বহাল রয়েছে, তাদের চুক্তি সংশোধন করে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট গ্রেড ও ধাপ অনুসারে ১ জুলাই থেকে তাদের বেতন পুনর্নির্ধারিত হবে।

এ ক্ষেত্রে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর অনুচ্ছেদ ১(৩)(ক), ১(৩)(খ), ১(৩)(গ) বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির অংশ ছাড়া এবং ১(৩)(ঞ) অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য ভাতাও পাবেন তারা।

১ জুলাইয়ের পর চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োগ পাওয়া বা ভবিষ্যতে নিয়োগ পাবেন, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অবসরের অব্যবহিত আগে প্রাপ্য মূল বেতনের গ্রেড ও ধাপ বিবেচনায় নেওয়া হবে। জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ এর অনুরূপ গ্রেড ও ধাপ অনুযায়ী তাদের চুক্তিভিত্তিক পদের বেতন নির্ধারণ করা হবে। এ জন্য বিদ্যমান চুক্তি থাকলে তা সংশোধন করতে হবে।

চুক্তি অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ এর অনুচ্ছেদ ১(৩)(ক), ১(৩)(খ), ১(৩)(গ) বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির অংশ ছাড়া এবং ১(৩)(ঞ) অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন ও চুক্তিতে উল্লেখিত প্রযোজ্য ভাতা দেওয়া হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বেতন অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে নির্ধারিত বেতনই কার্যকর হবে।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য নির্ধারিত বেতন থেকে গ্রস পেনশন-কম্যুটেশন বা সমর্পণের আগের অঙ্ক এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন বাদ দেওয়া যাবে না।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালীন চাকরির জন্য কোনো ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক বা বর্ধিত পেনশন দেওয়া হবে না।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ছাড়া অন্য ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য শর্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের সমন্বয়ে নির্ধারণ করা হবে। সে অনুযায়ী চুক্তিপত্র সম্পাদন করতে হবে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের সব আদেশ, স্মারক ও নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আগের নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বেতন-ভাতা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও চুক্তি অনুযায়ী প্রদেয় বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে সরকার পরবর্তী সময়ে যেসব আদেশ জারি করবে, সেগুলো প্রযোজ্য হবে।

অর্থ বিভাগের ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এটি গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

১ জুলাই থেকে কার্যকর নতুন বেতন স্কেল, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগেও পরিবর্তন

আপডেট সময় : ০৫:১১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকরের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে আটটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন অসামরিক পদে জনস্বার্থে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে সই করেছেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ নজরুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণে নতুন সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে নিয়োগ পাবেন—উভয় শ্রেণির ব্যক্তির ক্ষেত্রে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনের আটটি সিদ্ধান্ত হলো—
২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর বিভিন্ন গ্রেডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া যেসব কর্মচারীর চুক্তির মেয়াদ ১ জুলাইয়ের পরও বহাল রয়েছে, তাদের চুক্তি সংশোধন করে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট গ্রেড ও ধাপ অনুসারে ১ জুলাই থেকে তাদের বেতন পুনর্নির্ধারিত হবে।

এ ক্ষেত্রে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর অনুচ্ছেদ ১(৩)(ক), ১(৩)(খ), ১(৩)(গ) বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির অংশ ছাড়া এবং ১(৩)(ঞ) অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য ভাতাও পাবেন তারা।

১ জুলাইয়ের পর চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োগ পাওয়া বা ভবিষ্যতে নিয়োগ পাবেন, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অবসরের অব্যবহিত আগে প্রাপ্য মূল বেতনের গ্রেড ও ধাপ বিবেচনায় নেওয়া হবে। জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ এর অনুরূপ গ্রেড ও ধাপ অনুযায়ী তাদের চুক্তিভিত্তিক পদের বেতন নির্ধারণ করা হবে। এ জন্য বিদ্যমান চুক্তি থাকলে তা সংশোধন করতে হবে।

চুক্তি অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ এর অনুচ্ছেদ ১(৩)(ক), ১(৩)(খ), ১(৩)(গ) বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির অংশ ছাড়া এবং ১(৩)(ঞ) অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন ও চুক্তিতে উল্লেখিত প্রযোজ্য ভাতা দেওয়া হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বেতন অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে নির্ধারিত বেতনই কার্যকর হবে।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য নির্ধারিত বেতন থেকে গ্রস পেনশন-কম্যুটেশন বা সমর্পণের আগের অঙ্ক এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন বাদ দেওয়া যাবে না।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালীন চাকরির জন্য কোনো ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক বা বর্ধিত পেনশন দেওয়া হবে না।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ছাড়া অন্য ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য শর্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের সমন্বয়ে নির্ধারণ করা হবে। সে অনুযায়ী চুক্তিপত্র সম্পাদন করতে হবে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের সব আদেশ, স্মারক ও নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আগের নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বেতন-ভাতা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও চুক্তি অনুযায়ী প্রদেয় বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে সরকার পরবর্তী সময়ে যেসব আদেশ জারি করবে, সেগুলো প্রযোজ্য হবে।

অর্থ বিভাগের ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এটি গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।