ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চকবাজারে আগুনে পুড়লো ছয়তলার সব মালামাল, দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

চকবাজারে আগুনে পুড়লো ছয়তলার সব মালামাল, দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়তলার সব মালামাল পুড়ে গেছে। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার বেশি সময় পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে নিজেদের গুদামে থাকা মালামালের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা। অনেকের আশঙ্কা, আগুনে তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় ও ব্যবসার পুঁজি শেষ হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চকবাজারের ছোট কাটারা গলিতে অবস্থিত সাততলা ভবনটির সামনে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ লাখ লাখ টাকার পণ্য হারানোর আশঙ্কা করছেন, আবার কেউ কোটি টাকার ক্ষতির হিসাব নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

ভবনটির ছয়তলায় ব্যাগের গুদাম রয়েছে ব্যবসায়ী মো. রবিনের। তিনি জানান, সাততলা ভবনটির পাঁচ, ছয় ও সাততলায় ব্যাগ ও প্রসাধনসামগ্রীর গুদাম রয়েছে। তার গুদামটি ছয়তলার ডান পাশে, যেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তিনি জানান।

রবিন বলেন, তার গুদামে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ ছিল। আগুন লাগার পর থেকে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় মালামালের অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানতে পারছেন না। সব পুড়ে গেলে তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন।

রবিন আরও জানান, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নিচতলার একটি দোকানের কর্মচারীর কাছ থেকে আগুন লাগার খবর পান তিনি। গুদামগুলোতে নিয়মিত কেউ অবস্থান করেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা সেখানে মালামাল নিতে যান। আগুন লাগার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি নিজের গুদামে ঢুকতে পারেননি।

এদিকে, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভবনটির নিচতলার ব্যাগ ব্যবসায়ী মো. ইমতিয়াজ। তিনি অভিযোগ করেন, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে আগুন লাগলেও মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ভবন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। এত দীর্ঘ সময়েও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শুধু আগুন লাগা ভবনটির ব্যবসায়ীরাই নন, আশপাশের দোকান মালিকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নিরাপত্তার কারণে ছোট কাটারা গলির আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫টি ভবন বন্ধ রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব ভবনে প্রসাধনসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের অসংখ্য দোকান রয়েছে।

ভবনটির দারোয়ান মো. মজিবুল্লাহ জানান, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নেভাতে প্রচুর পানি ব্যবহার করা হলেও মঙ্গলবার সকালেও ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে মনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। এরপর আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে সংস্থাটির ১০টি ইউনিট। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, অগ্নিকাণ্ডে ভবনটির ছয়তলায় থাকা সব মালামাল পুড়ে গেছে। আগুন নেভানোর সময় তীব্র ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলের সরু রাস্তা এবং ভবনের কাঠামোগত জটিলতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

এদিকে, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কাটেনি। ভবনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় নিজেদের গুদামের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারছেন না তারা। ফলে কত টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে কিংবা কতটুকু উদ্ধার করা সম্ভব হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

দীর্ঘদিনের ব্যবসার পুঁজি হারানোর আশঙ্কায় এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৮০০ হামলায় ৯৫০ হুথি নিহতের দাবি ইয়েমেনের

চকবাজারে আগুনে পুড়লো ছয়তলার সব মালামাল, দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০১:২৬:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়তলার সব মালামাল পুড়ে গেছে। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার বেশি সময় পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে নিজেদের গুদামে থাকা মালামালের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা। অনেকের আশঙ্কা, আগুনে তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় ও ব্যবসার পুঁজি শেষ হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চকবাজারের ছোট কাটারা গলিতে অবস্থিত সাততলা ভবনটির সামনে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ লাখ লাখ টাকার পণ্য হারানোর আশঙ্কা করছেন, আবার কেউ কোটি টাকার ক্ষতির হিসাব নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

ভবনটির ছয়তলায় ব্যাগের গুদাম রয়েছে ব্যবসায়ী মো. রবিনের। তিনি জানান, সাততলা ভবনটির পাঁচ, ছয় ও সাততলায় ব্যাগ ও প্রসাধনসামগ্রীর গুদাম রয়েছে। তার গুদামটি ছয়তলার ডান পাশে, যেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তিনি জানান।

রবিন বলেন, তার গুদামে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ ছিল। আগুন লাগার পর থেকে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় মালামালের অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানতে পারছেন না। সব পুড়ে গেলে তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন।

রবিন আরও জানান, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নিচতলার একটি দোকানের কর্মচারীর কাছ থেকে আগুন লাগার খবর পান তিনি। গুদামগুলোতে নিয়মিত কেউ অবস্থান করেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা সেখানে মালামাল নিতে যান। আগুন লাগার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি নিজের গুদামে ঢুকতে পারেননি।

এদিকে, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভবনটির নিচতলার ব্যাগ ব্যবসায়ী মো. ইমতিয়াজ। তিনি অভিযোগ করেন, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে আগুন লাগলেও মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ভবন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। এত দীর্ঘ সময়েও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শুধু আগুন লাগা ভবনটির ব্যবসায়ীরাই নন, আশপাশের দোকান মালিকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নিরাপত্তার কারণে ছোট কাটারা গলির আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫টি ভবন বন্ধ রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব ভবনে প্রসাধনসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের অসংখ্য দোকান রয়েছে।

ভবনটির দারোয়ান মো. মজিবুল্লাহ জানান, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নেভাতে প্রচুর পানি ব্যবহার করা হলেও মঙ্গলবার সকালেও ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে মনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। এরপর আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে সংস্থাটির ১০টি ইউনিট। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, অগ্নিকাণ্ডে ভবনটির ছয়তলায় থাকা সব মালামাল পুড়ে গেছে। আগুন নেভানোর সময় তীব্র ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলের সরু রাস্তা এবং ভবনের কাঠামোগত জটিলতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

এদিকে, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কাটেনি। ভবনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় নিজেদের গুদামের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারছেন না তারা। ফলে কত টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে কিংবা কতটুকু উদ্ধার করা সম্ভব হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

দীর্ঘদিনের ব্যবসার পুঁজি হারানোর আশঙ্কায় এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের।