রিয়াল মাদ্রিদ গত রাতে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে গেছে। এই ম্যাচে একাধিক রেফারিং সিদ্ধান্ত নিজেদের বিপক্ষে গেছে বলে দাবি করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জোসে মরিনিও। প্রথমার্ধের দুটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি। সেই দুই ফাউলের একটি তিনি আবার প্রিন্ট করে নিয়ে এসেছেন সংবাদ সম্মেলনেও।
প্রথম যে ঘটনার কথা উল্লেখ করেন মরিনিও, তা ঘটে ৩৭ মিনিটে। রিয়ালের জুড বেলিংহ্যাম এবং আতলেতিকোর ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর মধ্যে বল দখলের লড়াইয়ে সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় হলুদ কার্ড দেখানো হয় বেলিংহ্যামকে।
সেই সময় রোমেরোকে বিপজ্জনক ফাউলের জন্য লাল কার্ড দেখানোর অনুরোধ করেছিলেন মরিনিও। কারণ রিপ্লেতে দেখা যায় বেলিংহ্যামের হাঁটুতে স্টাড দিয়ে আঘাত করেন রোমেরো। ভিএআর পর্যালোচনার পর বেলিংহ্যামের হলুদ কার্ড প্রত্যাহার করা হয় এবং রোমেরোকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ছিল ফেদে ভালভের্দের ওপর আতলেতিকোর কাং-ইন লির ফাউল নিয়ে। এই ফাউলে সরাসরি লাল কার্ড হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন মরিনিও। ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই পর্তুগিজ কোচ। তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত ইচ্ছাকৃত নয়, বরং ভুল বলেই তিনি বিশ্বাস করতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই এগুলো কেবলই ভুল, যেমন একজন কোচও ভুল করেন, একজন খেলোয়াড়ও ভুল করেন।’
হারলেও খেলোয়াড়দের নিবেদন নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই বলে জানান মরিনিও। বিশেষ করে প্রথমার্ধে তাদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে আমার দলকে আমার ভালো লেগেছে। প্রথমার্ধেও তাদের আমার সত্যিই ভালো লেগেছে। দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলে রাখা এবং আতলেতিকোর বল দখল থামানো স্বাভাবিকভাবেই খুব কঠিন ছিল। তাদের গর্ব আমার ভালো লেগেছে, তাদের দৃঢ়সংকল্প আমার ভালো লেগেছে। আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে হতাশ না হওয়াটা আমার জন্য ভালো একটা অনুভূতি।’
ডিন হাউসেনের বহিষ্কারের প্রসঙ্গেও কথা বলেন মরিনিও। এই ঘটনার সুবাদে পেনাল্টি পায় আতলেতিকো। তবে এখনো ভিএআরের রিপ্লে দেখা হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
এই হারের পর লিগ টেবিলে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে আতলেতিকো।
তবে মৌসুমের এখনো অনেকটা পথ বাকি আছে বলে জোর দিয়ে বলেন মরিনিও। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, বিষয়টা কীভাবে শুরু হলো তা নিয়ে নয়, বরং কীভাবে শেষ হলো সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

























