২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই দেশের রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মেরুকরণ। ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ কেন্দ্রীয় নেতারা দেশত্যাগ করার পর থেকেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ নিজেদের প্রতারিত ও দিশাহীন বোধ করছেন। এই প্রেক্ষাপটে বিদেশে অবস্থানরত ‘সুবিধাভোগী’ নেতাদের বর্জন করে দেশে রয়ে যাওয়া ত্যাগী কর্মীদের নিয়ে গঠিত হয়েছে নন-পলাতক আওয়ামী লীগ।
(ছবিতে: পলাতক নেতাদের সমালোচনা ও নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠনের তৎপরতা)
পলাতক বনাম নন-পলাতক: তৃণমূলের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ
৫ আগস্টের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাঠের রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন তৃণমূলের কর্মীরা। সাধারণ কর্মীদের অভিযোগ, কঠিন সময়ে বা আইনি সংকটে যখন কর্মীরা মামলা ও কারাবাসের মুখোমুখি হচ্ছেন, তখন কেন্দ্রীয় নেতারা বিদেশে বসে অনলাইনে উসকানি দিলেও তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না।
-
নেতৃত্বের সংকট: ৩০০ এমপির মধ্যে বড় একটি অংশ পলাতক থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।
-
অনলাইন ও মাঠে অসন্তোষ: মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রবাসে থাকা সাধারণ কর্মীরা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নেতাকর্মীরা ভিডিও বার্তায় পলাতক নেতাদের বিলাসবহুল জীবন ও কর্মীদের ত্যাগের বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
-
নতুন প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ: এই ক্ষোভ থেকেই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দীন ‘বাংলাদেশ নন-পলাতক আওয়ামী লীগ’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠন করে দেশের ৬৪ জেলায় কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা এবং শীর্ষ নেতৃত্ব দেশের বাইরে থাকায় তৃণমূলের এই ধরনের স্বপ্রণোদিত উদ্যোগ দলের কাঠামোগত ভাঙনেরই বহিঃপ্রকাশ। পলাতক নেতাদের অনুপস্থিতিতে দেশীয় পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার এই প্রবণতা ভবিষ্যতে মূলধারার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

























