ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেস্ট ক্রিকেটে ‘চা-বিরতি’ শুরু হয়েছিল যেভাবে

ক্রিকেট খেলা আবিষ্কারের সমস্ত কৃতিত্ব ইংল্যান্ডের ঝুলিতে থাকলেও, ক্রিকেটের অতি পরিচিত এবং জনপ্রিয় ঐতিহ্য ‘টি-ব্রেক’ বা ‘চা-বিরতি’ চালুর কৃতিত্ব কিন্তু ইংলিশদের নয়! প্রাথমিক যুগের টেস্ট ম্যাচগুলোতে কোনো চা-বিরতির আনুষ্ঠানিক নিয়মই ছিল না। ক্রিকেট ইতিহাসে তথ্য বলছে, ১৮৮১-৮২ সালের ঐতিহাসিক অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়াই প্রথম এই চা-বিরতির প্রচলন করেছিল।

পরবর্তীতে ১৮৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়া দল যখন ইংল্যান্ড সফরে যায়, তখন অজি অধিনায়ক জো ডার্লিং আনুষ্ঠানিকভাবে চা-বিরতির প্রস্তাব দেন। ইংরেজরা তার সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানালেও শুরুতে কিছুটা ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল। বিরতি দেওয়া হলেও খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে প্যাভিলিয়নে যেতেন না; বরং মাঠেই তাদের জন্য চা ও হালকা নাশতা নিয়ে আসা হতো। ১৯০২ সালের অ্যাশেজেও এই নিয়ম বহাল ছিল।

তবে ১৯০৫ সালে প্রথমবারের মতো ক্রিকেটাররা আনুষ্ঠানিকভাবে চা পানের উদ্দেশ্যে মাঠ ছেড়ে প্যাভিলিয়নে যাওয়ার সুযোগ পান। যদিও এর পরও বেশ কিছু বছর মাঠে বসে চা খাওয়ার ছবি ও ঐতিহ্য দেখা গেছে।তবে চা-বিরতির সূচনা নিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে আরেকটি আকর্ষণীয় তথ্যও প্রচলিত আছে। টেস্ট খেলুড়ে দেশ না হলেও স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ।

ধারণা করা হয়, উনিশ শতকের শেষ দিকে স্কটিশ ম্যাচগুলোতে চা পানের চল শুরু হয়। ১৮৯২ সালের মে মাসে গ্লাসগোর টিটউডে নর্থাম্বারল্যান্ড ও গ্লাসগো অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্টের মধ্যকার ম্যাচে মধ্যাহ্নভোজের পর প্রথম চা-বিরতির লিখিত প্রমাণ মেলে।সময়ের বিবর্তনে টেস্টের পাশাপাশি ওয়ানডে ক্রিকেটেও ঢুকে পড়েছিল এই ঐতিহ্য। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৬০ ওভারের প্রথম তিনটি বিশ্বকাপসহ তৎকালীন ওয়ানডে ম্যাচগুলোতে দুইবার বিরতি দেওয়া হতো—প্রথম ইনিংসে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে চা-বিরতি। অবশ্য আধুনিক ওয়ানডেতে দুই ইনিংসের মাঝে দীর্ঘ বিরতি রাখায় এই নিয়ম আর উঠে গেছে।

বর্তমানে চা-বিরতি মূলত পাঁচ দিনের টেস্ট ক্রিকেটেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।কালের পরিক্রমায় চায়ের মেন্যুতে এসেছে বৈচিত্র্য। এখন আর শুধু এক কাপ চায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না এই বিরতি। বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার, স্যান্ডউইচ ও হরেক পদের নাশতার ব্যবস্থা করা হয় এবং অনেক সময় বিশ্বখ্যাত শেফদের দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্রিকেটারদের খাবার তৈরির।

খেলোয়াড়দের এই বিরতির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার অলি পোপ একবার এক সাক্ষাৎকারে নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘অনেকে হয়তো চা পছন্দ করেন, তবে আমি সাধারণত স্যান্ডউইচের সঙ্গে কফি খেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’

জনপ্রিয় সংবাদ

টেস্ট ক্রিকেটে ‘চা-বিরতি’ শুরু হয়েছিল যেভাবে

আপডেট সময় : ০৪:১২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ক্রিকেট খেলা আবিষ্কারের সমস্ত কৃতিত্ব ইংল্যান্ডের ঝুলিতে থাকলেও, ক্রিকেটের অতি পরিচিত এবং জনপ্রিয় ঐতিহ্য ‘টি-ব্রেক’ বা ‘চা-বিরতি’ চালুর কৃতিত্ব কিন্তু ইংলিশদের নয়! প্রাথমিক যুগের টেস্ট ম্যাচগুলোতে কোনো চা-বিরতির আনুষ্ঠানিক নিয়মই ছিল না। ক্রিকেট ইতিহাসে তথ্য বলছে, ১৮৮১-৮২ সালের ঐতিহাসিক অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়াই প্রথম এই চা-বিরতির প্রচলন করেছিল।

পরবর্তীতে ১৮৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়া দল যখন ইংল্যান্ড সফরে যায়, তখন অজি অধিনায়ক জো ডার্লিং আনুষ্ঠানিকভাবে চা-বিরতির প্রস্তাব দেন। ইংরেজরা তার সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানালেও শুরুতে কিছুটা ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল। বিরতি দেওয়া হলেও খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে প্যাভিলিয়নে যেতেন না; বরং মাঠেই তাদের জন্য চা ও হালকা নাশতা নিয়ে আসা হতো। ১৯০২ সালের অ্যাশেজেও এই নিয়ম বহাল ছিল।

তবে ১৯০৫ সালে প্রথমবারের মতো ক্রিকেটাররা আনুষ্ঠানিকভাবে চা পানের উদ্দেশ্যে মাঠ ছেড়ে প্যাভিলিয়নে যাওয়ার সুযোগ পান। যদিও এর পরও বেশ কিছু বছর মাঠে বসে চা খাওয়ার ছবি ও ঐতিহ্য দেখা গেছে।তবে চা-বিরতির সূচনা নিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে আরেকটি আকর্ষণীয় তথ্যও প্রচলিত আছে। টেস্ট খেলুড়ে দেশ না হলেও স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ।

ধারণা করা হয়, উনিশ শতকের শেষ দিকে স্কটিশ ম্যাচগুলোতে চা পানের চল শুরু হয়। ১৮৯২ সালের মে মাসে গ্লাসগোর টিটউডে নর্থাম্বারল্যান্ড ও গ্লাসগো অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্টের মধ্যকার ম্যাচে মধ্যাহ্নভোজের পর প্রথম চা-বিরতির লিখিত প্রমাণ মেলে।সময়ের বিবর্তনে টেস্টের পাশাপাশি ওয়ানডে ক্রিকেটেও ঢুকে পড়েছিল এই ঐতিহ্য। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৬০ ওভারের প্রথম তিনটি বিশ্বকাপসহ তৎকালীন ওয়ানডে ম্যাচগুলোতে দুইবার বিরতি দেওয়া হতো—প্রথম ইনিংসে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে চা-বিরতি। অবশ্য আধুনিক ওয়ানডেতে দুই ইনিংসের মাঝে দীর্ঘ বিরতি রাখায় এই নিয়ম আর উঠে গেছে।

বর্তমানে চা-বিরতি মূলত পাঁচ দিনের টেস্ট ক্রিকেটেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।কালের পরিক্রমায় চায়ের মেন্যুতে এসেছে বৈচিত্র্য। এখন আর শুধু এক কাপ চায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না এই বিরতি। বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার, স্যান্ডউইচ ও হরেক পদের নাশতার ব্যবস্থা করা হয় এবং অনেক সময় বিশ্বখ্যাত শেফদের দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্রিকেটারদের খাবার তৈরির।

খেলোয়াড়দের এই বিরতির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার অলি পোপ একবার এক সাক্ষাৎকারে নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘অনেকে হয়তো চা পছন্দ করেন, তবে আমি সাধারণত স্যান্ডউইচের সঙ্গে কফি খেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’