ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ ফিফার

বিশ্বব্যাপী ফুটবল অবকাঠামো ও খেলার সার্বিক উন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা)। আগামী ৪৮-দলের বিশ্বকাপ থেকে প্রাপ্ত বিপুল আয় এবং সংস্থার নিজস্ব আর্থিক রিজার্ভ থেকে অতিরিক্ত ৩.৪ বিলিয়ন ডলার (২.৬ বিলিয়ন পাউন্ড) বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

নিজস্ব তহবিল থেকে এই বিপুল অর্থ ছাড় করতে যাচ্ছে ফিফা। বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের জন্য নির্ধারিত অনুদান সরাসরি দ্বিগুণ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, বিশ্বের সব ফুটবল ফেডারেশন এখন আগের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা পাবে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে এই প্রস্তাবটি পেশ হবে।

এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যখন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো একটি বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছেন; কারণ সম্প্রতি ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আনার জন্য তার নেওয়া ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ পরিকল্পনাটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।গত সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার সংস্থা (কনকাকাফ) যৌথভাবে ফিফা সভাপতিকে একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে তারা ফিফার নগদ তহবিল থেকে ২১১টি সদস্য দেশের প্রত্যেককে অবিলম্বে কমপক্ষে ১০ মিলিয়ন ডলার (৭.৫ মিলিয়ন পাউন্ড) করে দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছিল।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল অর্থ বরাদ্দের পেছনে বড় ধরনের কৌশলগত কারণ রয়েছে।

গত জুলাই মাসে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপে বেসরকারি বা ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আনার একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে উয়েফাসহ বিশ্ব ফুটবলের মূল অংশীজনদের তীব্র আপত্তির মুখে সেই পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় ফিফা।আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে মরক্কোর রাবাতে ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে ইনফান্তিনো পুনরায় প্রার্থী হবেন। নির্বাচনের আগে ২১১টি সদস্য দেশের সমর্থন নিশ্চিত করতে এবং আগের বিতর্কের ক্ষতিপূরণ হিসেবেই রিজার্ভের টাকা সরাসরি ফুটবলের মাঠপর্যায়ের উন্নয়নে দেওয়ার এই মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন এই মহাপরিকল্পনার অধীনে ফিফা বিশ্বজুড়ে অর্থ বণ্টন করবে। সেখানে ফিফার অন্তর্ভুক্ত ২১১টি সদস্য দেশ (যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে) চার বছরের এই নতুন চক্রে প্রত্যেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। আগে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলার।

ফিফার আওতাধীন ৬টি আঞ্চলিক কনফেডারেশন (যেমন: উয়েফা, কনমেবল, এএফসি) প্রতি চার বছরে ৯৯ মিলিয়ন ডলার করে তহবিল পাবে।

এই বিপুল ব্যয়ের জন্য ফিফা তার আর্থিক রিজার্ভ থেকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যবহার করবে। তবে এই খরচের পরও বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটির তহবিলে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ ফিফার

আপডেট সময় : ০৪:২১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বব্যাপী ফুটবল অবকাঠামো ও খেলার সার্বিক উন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা)। আগামী ৪৮-দলের বিশ্বকাপ থেকে প্রাপ্ত বিপুল আয় এবং সংস্থার নিজস্ব আর্থিক রিজার্ভ থেকে অতিরিক্ত ৩.৪ বিলিয়ন ডলার (২.৬ বিলিয়ন পাউন্ড) বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

নিজস্ব তহবিল থেকে এই বিপুল অর্থ ছাড় করতে যাচ্ছে ফিফা। বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের জন্য নির্ধারিত অনুদান সরাসরি দ্বিগুণ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, বিশ্বের সব ফুটবল ফেডারেশন এখন আগের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা পাবে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে এই প্রস্তাবটি পেশ হবে।

এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যখন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো একটি বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছেন; কারণ সম্প্রতি ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আনার জন্য তার নেওয়া ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ পরিকল্পনাটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।গত সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার সংস্থা (কনকাকাফ) যৌথভাবে ফিফা সভাপতিকে একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে তারা ফিফার নগদ তহবিল থেকে ২১১টি সদস্য দেশের প্রত্যেককে অবিলম্বে কমপক্ষে ১০ মিলিয়ন ডলার (৭.৫ মিলিয়ন পাউন্ড) করে দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছিল।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল অর্থ বরাদ্দের পেছনে বড় ধরনের কৌশলগত কারণ রয়েছে।

গত জুলাই মাসে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপে বেসরকারি বা ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আনার একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে উয়েফাসহ বিশ্ব ফুটবলের মূল অংশীজনদের তীব্র আপত্তির মুখে সেই পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় ফিফা।আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে মরক্কোর রাবাতে ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে ইনফান্তিনো পুনরায় প্রার্থী হবেন। নির্বাচনের আগে ২১১টি সদস্য দেশের সমর্থন নিশ্চিত করতে এবং আগের বিতর্কের ক্ষতিপূরণ হিসেবেই রিজার্ভের টাকা সরাসরি ফুটবলের মাঠপর্যায়ের উন্নয়নে দেওয়ার এই মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন এই মহাপরিকল্পনার অধীনে ফিফা বিশ্বজুড়ে অর্থ বণ্টন করবে। সেখানে ফিফার অন্তর্ভুক্ত ২১১টি সদস্য দেশ (যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে) চার বছরের এই নতুন চক্রে প্রত্যেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। আগে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলার।

ফিফার আওতাধীন ৬টি আঞ্চলিক কনফেডারেশন (যেমন: উয়েফা, কনমেবল, এএফসি) প্রতি চার বছরে ৯৯ মিলিয়ন ডলার করে তহবিল পাবে।

এই বিপুল ব্যয়ের জন্য ফিফা তার আর্থিক রিজার্ভ থেকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যবহার করবে। তবে এই খরচের পরও বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটির তহবিলে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত থাকবে।