অবসরে যাওয়ার পর পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা বাবদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা পেয়েছেন— এমন তথ্য জেনে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও একটি ট্রাকসহ লুণ্ঠিত বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মো. রহিম (৪০), বরুড়ার মো. জামাল প্রকাশ কুদ্দুস (৪২), দাউদকান্দির মো. সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সজিব (২৭), লাকসামের মো. আনোয়ার হোসেন মিলন (৫০) ও মো. হানিফ (৫৮)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মিলন ও হানিফ চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ এলাকায় বসবাস করতেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে ৩টার মধ্যে মিরসরাই উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুরের শেখের তালুক এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মো. মতিন উল্লাহর বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১৫ থেকে ১৬ জনের একদল ডাকাত বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। ডাকাতরা বাড়ির মালিক মো. মতিন উল্লাহকে মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রাখে এবং তার স্ত্রী ও মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এক ঘরে আটকে রাখে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডাকাত দল বিভিন্ন কক্ষের আলমারি, ওয়ারড্রোব ও আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর, ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর) ও সিপিইউসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫০ টাকা।
ডাকাতেরা পালিয়ে যাওয়ার পর প্রতিবেশীদের সহায়তায় ভুক্তভোগী পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে। খবর পেয়ে মিরসরাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক আইনগত ব্যবস্থা নেয়। পরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও মিরসরাই থানা-পুলিশ যৌথ তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি এলজি, চারটি কার্তুজ, দুটি বড় ছোরা, একটি ট্রাক, সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ডিভিআর ও মনিটর, একটি সিপিইউ এবং একটি ভাঙা তালা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে তারা একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত একাধিক ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্রেপ্তার রহিমের বিরুদ্ধে চুরি, অস্ত্র, খুন ও ডাকাতিসহ ১০টি মামলা রয়েছে। জামালের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে ৪টি, সাইফুলের বিরুদ্ধে ২টি ডাকাতির মামলা এবং হানিফের বিরুদ্ধে ডাকাতির চেষ্টার একটি মামলা রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, অবসরপ্রাপ্ত এএসপি পেনশন বাবদ মোটা অঙ্কের অর্থ পেয়েছেন—এমন খবরের ভিত্তিতেই মূলত ডাকাত দলটি এই বাড়িতে হানা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।






















