ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাফর পানাহির ৫ বছরের কারাদণ্ড, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ



ফটোকার্ড ডাউনলোড

ইরানের অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহিকে নতুন মামলায় পাঁচ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং দুই বছরের জন্য বিদেশযাত্রা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

নির্মাতার আইনজীবী মোস্তফা নিলি এ তথ্য জানিয়েছেন।ইরানের তেহরানের বিপ্লবী আদালতের ২৬ নম্বর শাখা পানাহির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। তার আইনজীবীর দাবি, মামলার শুনানির বিষয়ে পানাহিকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। গত সপ্তাহে তার ব্যাংক হিসাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা রায়ের বিষয়ে জানতে পারেন।

তবে ঠিক কী অভিযোগে তাকে নতুন করে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।নতুন এই দণ্ড তার বিরুদ্ধে আগের একটি মামলার রায় থেকে আলাদা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পানাহিকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের জুনে সেই দণ্ড বহাল রাখে আদালত।

ফলে দুই মামলায় তার মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ দাঁড়িয়েছে ছয় বছর এক মাসে।আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে পরিচিত এই নির্মাতা চাইলে বিদেশে অবস্থান করতে পারতেন। কিন্তু গত ৩০ মার্চ তিনি ইরানে ফিরে যান। ভ্যারাইটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পানাহি বলেছিলেন, নিজের দেশে থাকা তার জন্য প্রয়োজনীয়। কর্তৃপক্ষ কারাদণ্ড কার্যকর করতে চাইলে তা করতে পারে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

পানাহির বিরুদ্ধে বর্তমানে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত মাসে এর মধ্যে একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও হাজির হয়েছিলেন তিনি।

জাফর পানাহির পরিচালিত ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ ২০২৫ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বোচ্চ পুরস্কার পাম দ’র জেতে। পরে ছবিটি ২০২৬ সালের অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে ফ্রান্সের মনোনয়ন হিসেবে নির্বাচিত হয় এবং চূড়ান্ত মনোনয়নও পায়।

চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিরোধের মধ্যেও রয়েছেন পানাহি। ২০১০ সালে গ্রেপ্তারের পর তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণ, চিত্রনাট্য লেখা, সাক্ষাৎকার দেওয়া ও বিদেশ ভ্রমণের ওপর ২০ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

এরপর ২০২২ সালে আবারও গ্রেপ্তার হন এই নির্মাতা। প্রায় সাত মাস কারাগারে থাকার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পান তিনি। তবে নতুন রায়ের পর এখনো পানাহিকে কারাগারে নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাফর পানাহির ৫ বছরের কারাদণ্ড, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৫:৪১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

ইরানের অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহিকে নতুন মামলায় পাঁচ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং দুই বছরের জন্য বিদেশযাত্রা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

নির্মাতার আইনজীবী মোস্তফা নিলি এ তথ্য জানিয়েছেন।ইরানের তেহরানের বিপ্লবী আদালতের ২৬ নম্বর শাখা পানাহির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। তার আইনজীবীর দাবি, মামলার শুনানির বিষয়ে পানাহিকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। গত সপ্তাহে তার ব্যাংক হিসাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা রায়ের বিষয়ে জানতে পারেন।

তবে ঠিক কী অভিযোগে তাকে নতুন করে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।নতুন এই দণ্ড তার বিরুদ্ধে আগের একটি মামলার রায় থেকে আলাদা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পানাহিকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের জুনে সেই দণ্ড বহাল রাখে আদালত।

ফলে দুই মামলায় তার মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ দাঁড়িয়েছে ছয় বছর এক মাসে।আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে পরিচিত এই নির্মাতা চাইলে বিদেশে অবস্থান করতে পারতেন। কিন্তু গত ৩০ মার্চ তিনি ইরানে ফিরে যান। ভ্যারাইটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পানাহি বলেছিলেন, নিজের দেশে থাকা তার জন্য প্রয়োজনীয়। কর্তৃপক্ষ কারাদণ্ড কার্যকর করতে চাইলে তা করতে পারে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

পানাহির বিরুদ্ধে বর্তমানে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত মাসে এর মধ্যে একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও হাজির হয়েছিলেন তিনি।

জাফর পানাহির পরিচালিত ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ ২০২৫ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বোচ্চ পুরস্কার পাম দ’র জেতে। পরে ছবিটি ২০২৬ সালের অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে ফ্রান্সের মনোনয়ন হিসেবে নির্বাচিত হয় এবং চূড়ান্ত মনোনয়নও পায়।

চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিরোধের মধ্যেও রয়েছেন পানাহি। ২০১০ সালে গ্রেপ্তারের পর তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণ, চিত্রনাট্য লেখা, সাক্ষাৎকার দেওয়া ও বিদেশ ভ্রমণের ওপর ২০ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

এরপর ২০২২ সালে আবারও গ্রেপ্তার হন এই নির্মাতা। প্রায় সাত মাস কারাগারে থাকার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পান তিনি। তবে নতুন রায়ের পর এখনো পানাহিকে কারাগারে নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।