ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭৩ বছরেও কীভাবে ফিট পুতিন, জানা গেল খাদ্যাভাস

বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একজন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার দৈনন্দিন রুটিনের ছোটখাটো বিষয়ও প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সময় সময় তার খাবারের অভ্যাস সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

৭৩ বছর বয়সি পুতিন শৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য বেশি পরিচিত। ভোরের ব্যায়াম, শীতের পানিতে সাঁতার এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি—সবকিছুতেই তার নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা রয়েছে। খাবারের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই।

তার খাদ্যতালিকায় মূলত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, ফারমেন্টেড বা গাঁজন করা দুগ্ধজাত খাবার, শাকসবজি এবং খুব কম চিনি থাকে। তবে কাজের ব্যস্ততা ও ভ্রমণের ওপর ভিত্তি করে দিনের বাকি খাবারে পরিবর্তন আসে।

সকালের নাশতায় প্রোটিনের গুরুত্ব

পুতিনের দৈনন্দিন রুটিনে সবচেয়ে নির্দিষ্ট খাবার হলো সকালের নাশতা। রাশিয়া বিয়ন্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণত এক বাটি পোরিজ দিয়ে দিন শুরু করেন।

এর সঙ্গে থাকে টভোরগ—পূর্ব ইউরোপের জনপ্রিয় এক ধরনের টাটকা পনির, যা সাধারণত সামান্য মধুর সঙ্গে খাওয়া হয়।

এ ছাড়া তিনি কোয়েল পাখির কাঁচা ডিম পুরোটা খেয়ে থাকেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নাশতায় বিটরুট ও হর্সর‌্যাডিশের ঝাঁঝালো জুসও থাকে।

চিনি প্রায় বাদ, মধুই প্রধান মিষ্টি

পুতিন সাধারণত অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলেন। নিয়মিত মিষ্টি হিসেবে মধুকেই প্রাধান্য দেন বলে জানা যায়।

তবে আইসক্রিম তার পছন্দের খাবারগুলোর একটি। তিনি নিজেও জানিয়েছেন, মাঝে মাঝে আইসক্রিম খান। তবে এটি তার প্রতিদিনের খাবারের অংশ নয়।

তার খাদ্যাভ্যাসের মূল লক্ষ্য হলো এমন খাবার খাওয়া, যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দেয় না।

মাছ ও সবজিতে বেশি আগ্রহ

পুতিনের খাবারে নিয়মিত থাকে বিভিন্ন ধরনের সবজি। টমেটো, শসা ও সাধারণ সালাদ তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে। মাংস ও মাছের মধ্যে তিনি মাছ বেশি পছন্দ করেন। তবে খাসির মাংস বা ল্যাম্বও তার পছন্দের খাবার বলে জানা গেছে।

তিনি ভাত ও বাকউইট (বাজরা বা কুট্টুর চাল) পছন্দ করলেও ওটসের প্রতি তেমন আগ্রহ নেই বলে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন।

ব্যস্ত দিনে দুপুরের খাবারও হালকা

পুতিনের দুপুর বা বিকেলের খাবার অনেকটাই নির্ভর করে তার কাজের ব্যস্ততার ওপর। ব্যস্ত দিনে তিনি কখনো শুধু ফল অথবা এক গ্লাস কেফির খেয়েই সময় কাটান।

কেফির হলো গাঁজন করা এক ধরনের দুধের পানীয়, যা হজমের জন্য উপকারী বলে পরিচিত।

দীর্ঘ সময় অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি সাধারণত সহজপাচ্য ও হালকা খাবার বেছে নেন।

রাতের খাবার অনেক সময় বাদই দেন

পুতিনের খাদ্যাভ্যাসের সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়গুলোর একটি হলো—তিনি প্রায়ই রাতের খাবার এড়িয়ে চলেন।

বাড়িতে থাকা কিংবা বিদেশ সফর—দুই ক্ষেত্রেই সন্ধ্যার পর খাবার খুবই সীমিত রাখার চেষ্টা করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিদেশ সফরের সময় অবশ্য তিনি সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় খাবার চেখে দেখেন। তবে সেখানেও খাবারের পরিমাণ সাধারণত কম রাখেন।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

জনপ্রিয় সংবাদ

৭৩ বছরেও কীভাবে ফিট পুতিন, জানা গেল খাদ্যাভাস

আপডেট সময় : ১১:৫৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একজন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার দৈনন্দিন রুটিনের ছোটখাটো বিষয়ও প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সময় সময় তার খাবারের অভ্যাস সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

৭৩ বছর বয়সি পুতিন শৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য বেশি পরিচিত। ভোরের ব্যায়াম, শীতের পানিতে সাঁতার এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি—সবকিছুতেই তার নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা রয়েছে। খাবারের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই।

তার খাদ্যতালিকায় মূলত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, ফারমেন্টেড বা গাঁজন করা দুগ্ধজাত খাবার, শাকসবজি এবং খুব কম চিনি থাকে। তবে কাজের ব্যস্ততা ও ভ্রমণের ওপর ভিত্তি করে দিনের বাকি খাবারে পরিবর্তন আসে।

সকালের নাশতায় প্রোটিনের গুরুত্ব

পুতিনের দৈনন্দিন রুটিনে সবচেয়ে নির্দিষ্ট খাবার হলো সকালের নাশতা। রাশিয়া বিয়ন্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণত এক বাটি পোরিজ দিয়ে দিন শুরু করেন।

এর সঙ্গে থাকে টভোরগ—পূর্ব ইউরোপের জনপ্রিয় এক ধরনের টাটকা পনির, যা সাধারণত সামান্য মধুর সঙ্গে খাওয়া হয়।

এ ছাড়া তিনি কোয়েল পাখির কাঁচা ডিম পুরোটা খেয়ে থাকেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নাশতায় বিটরুট ও হর্সর‌্যাডিশের ঝাঁঝালো জুসও থাকে।

চিনি প্রায় বাদ, মধুই প্রধান মিষ্টি

পুতিন সাধারণত অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলেন। নিয়মিত মিষ্টি হিসেবে মধুকেই প্রাধান্য দেন বলে জানা যায়।

তবে আইসক্রিম তার পছন্দের খাবারগুলোর একটি। তিনি নিজেও জানিয়েছেন, মাঝে মাঝে আইসক্রিম খান। তবে এটি তার প্রতিদিনের খাবারের অংশ নয়।

তার খাদ্যাভ্যাসের মূল লক্ষ্য হলো এমন খাবার খাওয়া, যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দেয় না।

মাছ ও সবজিতে বেশি আগ্রহ

পুতিনের খাবারে নিয়মিত থাকে বিভিন্ন ধরনের সবজি। টমেটো, শসা ও সাধারণ সালাদ তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে। মাংস ও মাছের মধ্যে তিনি মাছ বেশি পছন্দ করেন। তবে খাসির মাংস বা ল্যাম্বও তার পছন্দের খাবার বলে জানা গেছে।

তিনি ভাত ও বাকউইট (বাজরা বা কুট্টুর চাল) পছন্দ করলেও ওটসের প্রতি তেমন আগ্রহ নেই বলে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন।

ব্যস্ত দিনে দুপুরের খাবারও হালকা

পুতিনের দুপুর বা বিকেলের খাবার অনেকটাই নির্ভর করে তার কাজের ব্যস্ততার ওপর। ব্যস্ত দিনে তিনি কখনো শুধু ফল অথবা এক গ্লাস কেফির খেয়েই সময় কাটান।

কেফির হলো গাঁজন করা এক ধরনের দুধের পানীয়, যা হজমের জন্য উপকারী বলে পরিচিত।

দীর্ঘ সময় অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি সাধারণত সহজপাচ্য ও হালকা খাবার বেছে নেন।

রাতের খাবার অনেক সময় বাদই দেন

পুতিনের খাদ্যাভ্যাসের সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়গুলোর একটি হলো—তিনি প্রায়ই রাতের খাবার এড়িয়ে চলেন।

বাড়িতে থাকা কিংবা বিদেশ সফর—দুই ক্ষেত্রেই সন্ধ্যার পর খাবার খুবই সীমিত রাখার চেষ্টা করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিদেশ সফরের সময় অবশ্য তিনি সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় খাবার চেখে দেখেন। তবে সেখানেও খাবারের পরিমাণ সাধারণত কম রাখেন।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে